বেগমগঞ্জে জেলা প্রশাসনের নির্দেশেও দখলমুক্ত হয়নি সরকারী ভূমি

খাস জমিতে নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ১৫:২৬ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৭, ১৫:৩৬

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানি ইউনিয়নের ছয়ানি বাজারে সরকারি পেরিফেরীভুক্ত খাস খতিয়ানের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে বহুতল ভবন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ২৮ মে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাস জমি দখলমুক্ত করার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেয়া  হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পর্যন্ত নির্দেশটি বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম ইয়াছির আরাফাত সেলফোনে বলেন, ইতোমধ্যে স্থানীয় তহশিলদারের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া খাস খতিয়ানের জায়গা অবৈধ দখলদারমুক্ত করার বিষয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ছয়ানী বাজারে লক্ষ্মনপুর মৌজার পেরীফেরীভূক্ত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১৫৫১ দাগের জমি (সাবেক খাদ্য গুদামের জয়গা) পাঁচ শতাংশ জমি দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবণের নির্মাণকাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভবনের নিচতলার মাটির নিচের ভিত্তি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে কলাম (পিলার) ও ভীমের কাজ।

কারা এই ভবন নির্মাণ করছে জানতে চাইলে আশেপাশের ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। এক কথায় বলেন, এ বিষয়ে কথা বললে প্রাণও চলে যেতে পারে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দখলের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিন উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রশিদ মোল্লা, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন ও যুবলীগ নেতা হারুনুর রশিদ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তারা হলেন, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. মাহবুব, কফিল উদ্দিন, মো. ইসমাইল, নাছির আলম ও নুরুল আমিন।

ছয়ানী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহির উদ্দিন ওরফে জহির মেম্বার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল অভিযোগ করেন, পরিত্যক্ত এ জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ১০জন ব্যবসায়ী ব্যবসা করে আসছিলো। সেসব ব্যবসায়ী দখলে থাকার কারণে তাদের নামে বন্দোবস্ত প্রক্রিয়াও অনেকটা প্রায় শেষের পথে। ইতোমধ্যে ওই প্রভাবশালী মহল সরকারি খাদ্য গুদামের খাসের জায়গা দখল করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ৪১২ দাগের সম্পত্তিসহ আশে-পাশের আরও বেশকয়েক ব্যক্তির বন্দোবস্ত নেয়া জায়গাও দখল করে নেয়। এতে বাজারের জামে মসজিদের সড়কটিরও কিয়দাংশ দখল করে নেয় তারা। সবকিছুই হচ্ছে স্থানীয় এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের নামে দোহাই দিয়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রশিদ মোল্লা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘ ওই জায়গা লিজ নেয়া হয়েছে। লিজের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। তিনি এমপি সাহেবের দায়িত্ব পালন করছেন।’ এক সনা বন্দোবস্তের জায়গায় পাকা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করার তো সুযোগ নেই প্রশ্ন করা হলে বলেন, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি জানেন কয়েক জনের নামে লিজ হয়েছে। তারা এমপি সাহেবের নেতৃত্বে আছেন। এমপি সাহেব তাকে কাজটি দেখার দায়িত্ব দিয়েছে, তাই তিনি দেখাশোনা করছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন বলেন, এমপি সাহেব (মামুনুর রশিদ কিরণ) লোকাল আওয়ামী লীগের লোকজনকে দিয়ে কাজটি করাচ্ছেন। সরকার দশজনের নামে বন্দোবস্ত দিয়েছে। একসনা বন্দোবস্তের জায়গায়তো স্থায়ী অবকাঠামো মির্মাণের সুযোগ নেই বললে মহিন উদ্দিন বলেন, একসনা বন্দোবস্ত এটা ঠিক। সারাদেশেই তো এভাবে সরকারি জায়গা দখল হচ্ছে।

আশেপাশে আরও সাত-আট ব্যক্তির বন্দোবস্ত নেওয়া জায়গাও দখল করে নেওয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন বলেন, আর কারো জায়গা দখল হওয়ার কথা ঠিক নয়। তারা বন্দোবস্ত নিয়েছেন কী না তাও তিনি জানেন না। এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হলে এমপি সাহেব বলবেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম জাফর উল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি খাস জমিতে পাকা ভবন কিংবা ভিত্তি (ফাউন্ডেশন) স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ করে থাকলে তা উচ্ছেদ হয়ে যাবে।


পিডিএসও/রানা