কারণ দর্শানো ছাড়াই ভেঙ্গে দিলেন ম্যানেজিং কমিটি

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ১৬:২৫ | আপডেট : ১৮ জুন ২০১৭, ১৬:২৮

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর

নানা অনিয়ম দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,স্বেচ্ছাচারিতা ও আত্মীয়করনের বেড়াজালে পরে স্বকীয়তা হারাচ্ছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমেদ হোসেন সরকারি বিধি বিধানকে কেয়ার না করে তার খেয়াল খুশি মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটি ভাঙছেন এবং গড়াচ্ছেন। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে দশবারের ও অধিক সময় এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দিয়ে সরকারি নিয়ম নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুরুপএকক উদ্ভট সিদ্ধান্তের কারনে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে ভেংগে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। গড়ে উঠেছে দূর্নীতির পাহাড়।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমেদ হোসেন কোন প্রকার কারন দর্শানো ব্যতিরেকেই সম্পুন্ন ব্যক্তি কেয়াল খুশি মতো  একটি পত্রের  মাধ্যমে রংপুরের মনোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটি ভেংগে দিয়ে এড হক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ।  পত্রে বলা হয়েছে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম কে বহিস্কার করার অপরাধে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি ভেংগে দেয়া হলো।
উল্লেখ্য বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম অন্য একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন কারায়  ,গত ২০১৬ সালের ৩০ আগষ্ট   ম্যানেজিং কমিটির নিকট এক আবেদনে  প্রধান শিক্ষকের পদ হতে ইস্তেফা দেন। উক্ত ইস্তেফা পত্র গত ৩১ আগষ্ট ২০১৬ সালে ম্যানেজিং কমিটির সভায় গৃহীত হলে তিনি অব্যাহতি প্রাপ্ত হন।কিন্তু প্রধান শিক্ষক পদে অন্যত্র চাকরী না হলে অব্যাহতি প্রাপ্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক কোতয়ালী থানায় কমিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন যা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়। অত;পর চাকরী ফেরতের আশায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। শিক্ষা বোর্ড তদন্ত অন্তে ডিইও রং/২০১৭/৩০১৮ তাং ১৮/১/২০১৭ নং স্মারকে এক পত্রের মাধ্যমে সাবেক প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অনিয়ম ও ইস্তেফা পত্র প্রদান প্রতিয়মান না হওয়ায় পত্র ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে  তাকে পু;ণবহাল করার নির্দেশ দেন। বোর্ডের ইস্যু কৃত পত্রের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  রংপুর জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ার ম্যান আদালতে সময়ের আবেদন করে পরবর্তীতে  সম্পুন্ন নিজের ইচ্ছামতো এবং বিধি বর্হিত ভাবে কোন প্রকার কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই  গত ১২/০৬/২০১৭ তারিখে ২/এস/৪৮৮/৪১৪৭(৬)  নং স্মারকের মাধ্যমে বিদ্যালয় উপ পরিদর্শক আলতাব হোসেন স্বাক্ষরিত  একটি চিঠি ইস্যু করে  মনোহর উচ্চ বিদ্যারয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভেংগে দেন এবং এড হক কমিটি গঠনের জন্য সাবেক প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। বোর্ড চেয়ার ম্যানের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারনে একদিকে বিদ্যালয়টিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষা ব্যাবস্থা। অপর দিকে বিদ্যালয়টির প্রায় ২০ জন শিক্ষক কর্মচারী  তাদের বেতন ও ঈদ বোনাস  না পেয়ে হা-পিত্তেস করছেন ।
এদিকে নীলফামারী জেলার জলডাকা উপজেলার বালাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে নিজ ক্ষমতা বলে দশ বার এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়ে অনিয়মের চুড়ান্ত শিকড়ে পৌছেছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমেদ হোসেন। উল্লেখ্য চেয়ারম্যান এর সহধর্মিনী মোছা; রওশন আরা বেগম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। প্রফেসর আহমেদ হোসেন শিক্ষাবোর্ডের  চেয়ারম্যান পদে যোগদানের পর থেকে তার স্ত্রী মোছা; রওশন আরা বেগম  নিয়মিত ভাবে অনুপস্থিত থেকে ও নিয়মিত ভাবে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। এ ব্যাপারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহমেদ হোসেন এর  সাথে কথা হলে তিনি জানান তার স্ত্রী অসুস্থ্য তাই তার পরিবর্তে তার এম এ পাশ ছেলে শাওয়ন  প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে ক্লাশ নিচ্ছে।ওই বিদ্যালয়ে নিয়মিত কমিটির পরিবর্তে কেন বারবার এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।তিনি আরো বলেন, কোনটা নিয়ম আর কোনটা অনিয়ম তা তার জানা আছে।সুতরাং মনোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাপারে কোন অনিয়ম করা হয়নি।যারা অনিয়মের কথা বলছেন তারা নিজেরাই জানেন না যে কোনটা নিয়ম আর কোনটা অনিয়ম।

মনোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক বোর্ডের চিঠি দেখিয়ে ব্যাংককে বিল প্রদানে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষক কর্মচারিরা বেতন তুলতে পারছেন না তবে তিনি বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে লিখিত ভাবে জানিয়ে প্রত্যয়ন পত্রে স¦াক্ষর করার জন্য আবেদন করেছেন।


পিডিএসও/রানা