অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় ভবন বিক্রি!

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৭, ১৬:১৪ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৭, ১৮:৪৩

জাহাঙ্গীর হোসেন, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সুন্দ্রাকালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। ফ্যাসেলিটিজ বিভাগ ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবনটি  নির্মাণ করেছিল।

নিয়ম অনুযায়ী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ভবন বিক্রি করতে হলে স্কুল পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষা অফিসের ডিজির কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন এনে উন্মক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করতে হয়। এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা ও বিকল্প শ্রেণি কক্ষের ব্যবস্থা না করে বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয় ভবনটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয় বন্ধ ও ভবন ভাঙ্গার বিষয় জানানো হয় নি বলে জানা  গেছে। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন তিনি সব নিয়ম মেনেই বিদ্যালয় ভবন বিক্রি করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৭-৮ জন লোক ভবনটি ভাঙ্গার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। লাইব্রেরী কক্ষে রাখা বইগুলো মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, যারা ভবন ভাঙছেন তারা প্রভাবশালী কি কারণে বিদ্যালয়টির ভাঙ্গা হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই।

এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্থানীয় কিছু প্রভাব শালীর সহায়তায় বিদ্যালয়টি নদীর নিকটবর্তী দেখিয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ভবনটি বিক্রি করে দেন। বিকল্প শ্রেণি কক্ষ না থাকায় প্রধান শিক্ষক মৌখিক ভাবে বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন। এতে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন.‘  আমরা ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করে সভাপতি নির্দেশে ভবনটি বিক্রি করছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গাজী মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, নদীর তীর বর্তী হওয়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ভবনটি বিক্রি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ এবং ভবন বিক্রির বিষয় আমি কিছু জানি না। যদি বিদ্যালয় বন্ধ থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পিডিএসও/রানা