নবাবগঞ্জের নবাব, দাম ১৬ লাখ!

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২০, ১৭:১৮

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ছোট বক্সনগর এলাকার মো. মনির আহমেদ পেশায় দন্ত চিকিৎসক। ২ বছর ৪ মাস আগে শখের বসে অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রাল প্রজাতির একটি গরুর লালন-পালন শুরু করেন। গরুর মালিক মনির এবারের ঈদে গরুটির দাম হাঁকাচ্ছেন ১৬ লাখ টাকা। দামের সাথে নামের মিলটা খুঁজতে তাকে প্রশ্ন করা হল গরুটির নাম কি? প্রশ্ন করতেই মুঁচকি হাসি দিয়ে বীর দর্পে বললেন ‘নবাব’। কুচকুচে কালো রংয়ের নবাবকে দেখতে ইতিমধ্যে দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা ভিড় করছে মনিরের বাড়িতে।

কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদের কাছে পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে এই জাতের গরু। ৬ ফুট উচ্চতার নবাবের ওজন প্রায় ১ টন বলে দাবি মালিকের। তাই কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে নবাবের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৬ লাখ টাকা। 

জানা যায়, দন্ত চিকিৎসক মনির নবাবকে পরম যত্নে লালন করেছেন। তিনি, তার ছোট ভাই পনির আহমেদ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ব্যস্ত থাকেন ‘নবাব’র সেবা যত্নে। নবাবের জন্য বানানো হয়েছে আলাদা শেডের ব্যবস্থা। রাখা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ইলেকট্রিক ফ্যানের সু-ব্যবস্থা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, গরুটির মালিক মনির পরম যত্নে নবাব’কে গোসল করাচ্ছেন। কাজের ফাঁকে কথা হয় মনিরের সাথে। তিনি বলেন, অনেক যত্ন করে আমি নবাবকে দুইবছর চারমাস ধরে লালন-পালন করে আসছি। গরুটির বয়স ৩ বছর ৮মাস। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রয়েছে সবুজ ঘাস, সয়াবিনের খৈল, গম, ভুট্টা, ছোলা, পায়রা। আমিসহ পরিবারের সকলে ২৪ ঘন্টাই নবাবের সেবাযত্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকি। এ ছাড়া নবাবকে লালন পালনের  ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করেছে।  

তিনি আরো বলেন, করোনার মহামারি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই কুরবানির হাটে গিয়ে বিক্রির তেমন কোন ইচ্ছা নেই। আমার ইচ্ছা নবাবকে বাড়ি থেকেই বিক্রি করবো। আশা করি আমার চাহিদা মতো দাম পাব। ইতিমধ্যেই নবাবকে দেখতে দোহার, নবাবগঞ্জের সৌখিন ও বিত্তবান মানুষেরা তার বাড়িতে ভিড় করছে। এলাকার মানুষের মাঝে এক বাড়তি আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সম্পা ও মো. আনিস জানান, নবাব নামের গরুটির মালিক মনির গরুটিকে সন্তান স্নেহে দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করে আসছে। গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখতে এলাকাবাসী হিসেবে আমাদেরও ভালো লাগছে। তাই বিত্তশালীদের প্রতি আমাদের আবেদন তারা যেনো ন্যায্য মূল্য দিয়ে গরুটিকে কিনে নেয়।

নবাবের মালিক মনিরের মেয়ে নুসরাত আহমেদ আদ্রিতা বলেন, আমার বাবা আমাকে যেভাবে লালন-পালন করেন ঠিক নবাবকেও সেইভাবে লালন পালন করছেন। সারাক্ষণই নবাবকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বাবা।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে প্রিয় নবাবকে নিয়ে স্বপ্নের বীজ বপন করছেন দন্ত চিকিৎসক মনির আহমেদ। নায্যমূলেই বিক্রি হবে নবাবগঞ্জের নবাব এমন প্রত্যাশা তার।

পিডিএসও/এসএম শামীম