আনোয়ারায় ৩ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বছরে ৬ মাস

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২০, ২১:০১

আনোয়ারা প্রতিনিধি

বছরে ৬ মাস থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন, বাকী ৬ মাস গাড়ী চলাচল করলেও রাস্তা দিয়ে নয়, জমি কিংবা বিলের উপর দিয়ে। এ তিনটি গ্রাম হল আনোয়ারার উপকূল রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা, দক্ষিণ গহিরা ও বারআউলিয়া এলাকা। তিন গ্রামের হতভাগা প্রায় ১৫ হাজার মানুষ গুলোকে সাধারণ রোগী কিংবা ডেলিবারি রোগী নিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। এ ছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে নারী শিক্ষায় যেমন পিছিয়ে পড়েছে তেমনি পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে গ্রাম গুলোতে। 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা,দক্ষিণ গহিরা ও বারআউলিয়া এলাকার মানুষ বিভিন্ন সরকারের উন্নয়নের আশ্বাসের বাণী শুনলেও কার্যত কোন উন্নয়ন তারা দেখেনি। তাই নেতাদের এসব আশ্বাসে তাদের আর বিশ্বাস নেই।

গ্রামের প্রধান সড়ক হচ্ছে ঘাটকুল-বারআউলিয়া সড়ক, ঘাটকুল-ফকির হাট আংশিক বকতেয়ার সড়ক, বারআউলিয়া-দোভাষীর বাজার সড়ক ও ফকির হাট-দোভাষীর বাজার সড়ক। তিন গ্রামে কোন কার্পেটিং কিংবা পাকা সড়ক নেই বললেই চলে। বঙ্গোপসাগরের খোলা বেডিবাঁধ ও বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে কাঁচা বা মাটির সড়ক গুলোও খন্ডখন্ড হয়ে ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও কোথাও বিলিন হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে কিছু ভাঙা সড়কে স্থানীয়রা চাঁদা তুলে বা কারো সহায়তায় বাঁশের সাকো তৈরি করে চলাচলের চেষ্টা করছে। বছরের ৬ মাস এভাবে কাটলেও শুষ্ক মৌসমে চলতে হয় জমি কিংবা বিলের উপর দিয়ে। এসব কারণে ৩ গ্রামের নারীরা যেমন শিক্ষা ক্ষেত্রে পিঁছিয়ে পড়েছে তেমনি ঝরে পড়ার সংখ্যাও অনেক বেশি। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষিত।

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, এ গ্রামের সড়ক গুলো মেরামত করা হলেও সাগরের জোয়ারের পানি উঠানামা করার কারণে এসব সড়ক ভেঙে যায়। তাই আগে টেকসই বেডিবাঁধ না হলে সড়ক গুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী তসলিমা জাহান জানান, উপকূলীয় এসব এলাকার সড়ক ব্যবস্থার জন্য এখনো কোন বরাদ্ধ নেই।

পিডিএসও/এসএম শামীম