সুন্দরগঞ্জে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পানিবন্দি মানুষ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৭:১৩

সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃৃৃৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি গবাদিপশু-পাখি নিয়েও পড়েছেন চরম বেকায়দায়।

তিস্তা বিধৌত এ উপজেলায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারাপুর, বেলকা, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, চন্ডিপুর ও কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলসহ অনেক লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। 

সোমবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পানিবন্দি ৮হাজার ৯শ' ৩০টি পরিবারের ৩৫ হাজার ৭শ' ২০জন মানুষ। বসতবাড়ি ও ঘরে পানি উঠায় রান্নাসহ গবাদিপশু, পাখির খাদ্য নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে।  

সরেজমিনে তারাপুর গ্রামের তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের বসতবাড়িসহ ঘরে পানি উঠেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষজন। মহিলারা গবাদিপশুর খাদ্যের যোগান দিতে বড় বড় পাতিল নিয়ে কোমর পানি ভেঙ্গে ছুঁটছেন চরের পাট ক্ষেতের দিকে। আর রান্না করতে না পারায় অনেকটা অভুক্ত অবস্থায় কাটছে এসব মানুষের দিন। নলকুপগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে এ পর্যন্ত ৫০ মে.টন চাল, ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শুকনো খাবার ও শিশুদের জন্য ৫০ হাজার টাকার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।    

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড কন্ট্রোল রুম জানায়, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান জানান- “ইতোমধ্যেই ৭টি ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ৫০ মেট্রিকটন চাল, ২লাখ ৭৫ হাজার টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আজ টিআর হিসেবে বরাদ্দ পেয়েছি ২৫টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা।”

পিডিএসও/এসএম শামীম

সর্বাধিক পঠিত