উল্লাপাড়ায় তৃতীয় লিঙ্গধারীদের স্বাবলম্বী করতে নানা উদ্যোগ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৫:৪৮

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রিয় নীড় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে পুর্নবাসন করা হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ২০টি পরিবার। এদেরকে এখন স্বাবলম্বী করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে নেয়া উদ্যোগের একটি হলো- গরু লালন পালন। এর জন্য বিশাল একটি কাউ শেড (গোয়াল ঘর) নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সূত্রে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে দাদনপুরে প্রিয় নীড় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে পুর্নবাসিত করা হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের ২০টি পরিবারকে। সিরাজগঞ্জ জেলা ও উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ প্রকল্পে ইটের গাথুনির উপর টিনের ছাউনিতে বসত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরে বসবাস করছে পরিবারগুলো। প্রকল্পটিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারও রয়েছে। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্প প্রিয় নীড়ে বসবাসরতদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা আছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে এদেরকে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গরু লালন পালন, সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ আয়ের পথ করে দেয়া। প্রকল্প চত্ত্বরে বিশাল আকারে একটি গোলালঘর নির্মান কাজ চলছে।

এ প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবার গুলোর অর্থে এটি নির্মাণ হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের একটি কমিটি বসবাসকারীদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সার্বিক বিষয়ে তদারকি, তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে বলে জানা যায়।

এ কমিটিতে রয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভুমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, প্রাণি সম্পদ অফিসার, সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও সমবায় অফিসার। উপজেলা সমবায় বিভাগ থেকে এরই মধ্যে সমিতির অনুকুলে ৬ লাখ টাকা ঋন হিসেবে দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গরু লালন পালনে প্রশিক্ষণ এবং জেলা প্রশাসন থেকে গরু কিনে দেয়া হবে বলে জানানো হয়। গত ক’দিন আগে প্রকল্প চত্ত্বরে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন জাতের চারা গাছ লাগানো হয়েছে। 
 

প্রিয় নীড় আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারী তৃতীয় লিঙ্গের আলো সমিতির সভাপতি পদে আছেন। তিনি জানান, এমন একটি স্থায়ী বসত ঘর পেয়ে তারা সবাই খুশি। তারা গরু পালন সহ দুর্জি প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হয়ে গোয়াল ঘর নির্মাণ করছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, প্রিয় নীড় আশ্রয়ন প্রকল্পে তৃতীয় লিঙ্গের ২০টি পরিবারকে পুর্নবাসনের মাধ্যমে তাদের স্থায়ী বসবাসঘর হয়েছে। এখন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। এরা যেন সমাজের বোঝা না হয়ে থাকে। কারো কাছে হাত পাততে না হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, কেউ রবে না গৃহহীন প্রধানমন্ত্রীর এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে তৃতীয় লিঙ্গের ২০টি পরিবারকে স্থায়ী বসবাস ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। সমাজ থেকে ছিটকেপড়া এদেরকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এদেরকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে জড়িত করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পিডিএসও/এসএম শামীম