তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

প্রচণ্ড গতিতে প্রবেশ করছে উজানের ঢল

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৯:০৩ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৯:২৬

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

উজানের ধেয়ে আসা ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে তিস্তা নদীতে। তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় লাল সংকেত দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পানির তীব্র স্রোতে মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গবাদি পশু ভেসে যাচ্ছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষের আহাজারি বাতাসে ভাসছে।

রোববার রাত ৮টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ১০ মিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ মিটার) বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে প্রতিমুহূর্তেই তিস্তার পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিকাল সাড়ে ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে ভয়াবহ ঢলের হাত হতে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র নিয়ে তিস্তা অববাহিকার মানুষজন নিরাপদে সরে যেতে শুরু করেছে। অনেকের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে লাল সংকেত দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ (ফ্লাডবাইপাস) এলাকাটি ডালিয়া কর্মকর্তারা নজরদারি করছে। রাত ৮টা থেকে তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ এলাকার উজান ও ভাটি এলাকায় বসবাস করা পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্ট থেকে উজানে ভারতে তিস্তার দো-মহনীর দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার ও ভারতের গজলডোবার দুরত্ব ১২০ কিলোমিটার। ভারতের পাহাড়ে ও সমতলের প্রচুর বৃষ্টিপাত ও গজলডোবার জলকপাট খুলে দেওয়ায় ৮৮/৯৬ অথবা ৯৮ সালের মতো বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে।

তিস্তার পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। চৌকি ও খাটের উপর মাচাং বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পানিবন্দি পরিবারের মানুষগুলো। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ বা পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। খুব কষ্টে পড়েছেন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা। গবাদি পশু-পাখি নিয়েও চরম বিপাকে পানিবন্দি পরিবারগুলো। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বন্যাদুর্গত এলাকায়।

তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় লালমনিরহাট জেলার অসংখ্য ফসলি জমির আমন বীজতলা, রোপিত আমনের রোপা তলিয়ে গেছে। বসতঘরগুলোতে প্রকারভেদে হাঁটু ও কোমড় সমান পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের খামারগুলোর পুকুরগুলোতে পানি উপচে পড়ায় প্রচুর মাছ ভেসে গেছে। ওই সকল এলাকায় খবর নিয়ে দেখা গেছে, পরিবারগুলো বাক্স-পোটলা নিয়ে নিরাপদে সরে যাচ্ছে। এ ছাড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বন্যার পানির স্রোত বইছে।

পিডিএসও/হেলাল