পাবনায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে নিহতের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২০, ১৮:৪৫

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবক তানজিব শেখকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন তার পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। 

পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত যুবক তানজিব শেখের পিতা বাবু শেখ জানান, তার ছেলে মেধাবী ছাত্র ছিলো। এডওয়ার্ড কলেজ থেকে মাষ্টার্স পাশ করে ব্যবসার পাশাপাশি যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আমার গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমাদের পরিবারে ৪জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। আমার ছেলে তানজিব এলাকায় মাদক ব্যবসা সহ সকল অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করতো। এটাই তার জন্য কাল হলো। তার বিরুদ্ধে এলাকার ২টি মারামারির মামলা ছাড়া অন্য কোনও মামলা ছিল না।

পুলিশ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে তানজীবসহ ৬বন্ধু রাজনৈতিক আলাপের জন্য পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্যের অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় শহরের চাঁদাখার বাঁশ তলা থেকে পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় ভুমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ টাকা খেয়ে নিরিহ নিরাপরাধ তানজীবকে থানার ভিতরেই নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর সুইস গেটে বন্দুকযুদ্ধের নাটক করা হয়।

তিনি বলেন, নিহত তানজীবের পায়ের রগ কাটা ছিল এবং শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহৃ ছিল। তিনি আরও বলেন, তানজীব তো পুলিশের কাছে আটক ছিল তাহলে বন্দুকযুদ্ধ করলো কেমনে। তারা তানজীবকে হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান এবং সেই সাথে দায়ী পাবনার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত তানজীবেরে ভাগ্নে ইয়াসির আরাফাত।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত তানজীবের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান কোলে নিয়ে স্ত্রী মেঘনা খাতুন, মা মলিনা খাতুন ও বাবা বাবু সেখসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, বুধবার ভোর রাতে সদর উপজেলার শিবরামপুর বেড়িবাঁধ বটতলা এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে যুবক তানজিব শেখ নিহত হয়। সে শহরের রামচন্দ্রপুর মহল্লার বাবু শেখের ছেলে। পুলিশের দাবি নিহত তানজিবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ ৫ টি মামলা রয়েছে, সে শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিল।