আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আত্রাইয়ে নদী ভাঙনের কবলে ঐতিহ্যবাহী স্কুল

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ১০:৪৮ | আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ১১:০৯

তপন কুমার সরকার, আত্রাই (নওগাঁ)
১৭৫৭ সালে স্থাপন হওয়া আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সবচেয়ে পুরোনো আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যালয়ের কিছু অংশ চলে গেছে নদীগর্ভে। 

সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা অতি বৃষ্টির কারণে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের পেছন দিক এবং খেলার মাঠের কিছু অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। বর্ষায় বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। 

অনগ্রসর শিশুদের শিক্ষাদানের লক্ষ্যে ১৭৫৭ সালে স্থাপন করা হয় বিদ্যালয়টি। নদী ও বিলে আবৃত আটগ্রাম মানুষের শিক্ষার উন্নয়ন ঘটলেও পিছু ছাড়েনি তাদের দুর্যোগ এবং রাস্তা-ঘাটবিহীন চলাফেরাসহ নদী ভাঙন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাথে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কালিকাপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম আটগ্রাম। গ্রামের পূর্বদিকে ছোট যমুনা নদী দক্ষিণে আত্রাই নদী এবং পশ্চিমে রয়েছে বিরাট আকারের বিল। বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী এবং গ্রামের মানুষের এপাড়া-ওপাড়ায় যাতায়াতে একমাত্র নৌকায় ভরসা। নদীর পাড়েই রয়েছে আটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এই বিদ্যালয়ে ৬ কক্ষের ২টি ভবন রয়েছে। ভবনের পেছনেই রয়েছে নদী। সেখানেও রয়েছে বেশ কিছু ভাঙনের চিহ্ন, যা বিদ্যালয়ের কিছুটা জমি ইতোমধ্যে গ্রাস করেছে। আর বিদ্যালয়ের দক্ষিণে রয়েছে বড় একটি ভাঙন। মাঠের অনেকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে এই ভাঙন। ভাঙনটি ক্রমান্বয়ে বিদ্যালয় ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে। বর্তমানে ভাঙন ভবনের কাছাকাছি আসায় বিদ্যালয় বাঁচানো নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক ও এলাকার মানুষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকুল উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ৮/১০ শতক জমির অংশ নদীতে চলে গেছে। পানির স্রোত এত বেশি যে, ভাঙন ক্রমেই বেড়ে এগিয়ে আসছে বিদ্যালয় ভবনের দিকে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা দুবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুদানে গত ৭/৮ বছর আগে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলামম কিন্তু নদীর স্রোতের কারণে তা বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে ব্রিজ এবং রাস্তা-ঘাট সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির আগামী সভায় বিদ্যালয় ভাঙনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। 

পিডিএসও/হেলাল