তাড়াশে ফিরে এলো ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২০, ১০:৫১

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস আতঙ্কে পুরো বিশ্ব। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলো এখন গৃহবন্দি। এই অবস্থায় নিরাপদে থাকতে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ প্রায় অনেক কর্মক্ষেত্র। করোনার ভয়াবহতা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। আর এই লম্বা ছুটিতে বাঙালির ঐতিহ্য রঙিন ঘুড়িতে মেতেছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তরুন প্রজন্মসহ নানা পেশাজীবি মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এখন ফাঁকা মাঠে ঘুড়ি ওড়াতে ব্যস্ত। অনেকেই আবার ঘুড়ির সুতোয় কাটাকাটি খেলে কিংবা আকাশে ঘুড়ি পাঠিয়ে এ যেন করোনাকালীন ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার এক সুস্থ বিনোদন। 

আর এই ঘুড়ি উড়ানোকে পুঁজি করে ঘুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন যুবক কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কিছু যুবক বাশ-বেত এবং রঙ্গিন কাগজ দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করে তা মানুষদের কাছে খুব ভালো দামে বিক্রি করছে।

উপজেলার দক্ষিন পাড়ার ঘুড়ি বিক্রেতা ফুলজার হোসেন বলেন, বাড়িতে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে আর্থিক সংকটের মধ্যদিয়ে দিন যাচ্ছিল। এবছর মানুষের মধ্যে ঘুড়ির ব্যপক জনপ্রিয়তা দেখে ঘুুরি বানানো এবং বিক্রির কাজে মন দিলাম। তারপর ঘুড়ি বিক্রিতে ব্যপক সারা পাওয়ায় এটা এখন আমার জন্য লাভজনক ব্যবসা হয়ে উঠেছে। দূর/দুরান্ত থেকে বিভিন্ন ধরনের লোক আমার কাছে ঘুড়ি কিনতে আসে। সাধারণ ঘুড়ি, চিলা ঘুড়ি, ঢাউস, চোং, বিমান, কয়রা, ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার ঘুড়ি এক একটা ৩০০/৪০০/৫০০ টাকায় বিক্রি করি । সারাদিন কাজ করলে ২/৩ টা ঘুরি বানানো সম্ভব হয়। সেখানে থাকা একজন ক্রেতা বলেন, আমি আমার ছেলের জন্য একটা ঘুড়ি কিনতে এসেছি। এই সময়ে ছেলেকে বাইরে ঘোড়াফেরা করতে দেওয়ার চাইতে মাঠে ঘুড়ি উরাতে দেওয়া ভালো। 

এই অবসর সময়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ ঘুড়িতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লাইট লাগিয়ে রাতের আকাশে একটা সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে। যা মানুষকে বিনোদন দিতে সাহায্য করে।

পিডিএসও/এসএম শামীম