ক্ষেতলালে ঝড়ে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২০, ১৮:১৮ | আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ১৮:৪০

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
ক্ষেতলালে ঝড়ে ৩টি রাইস মিল ও পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ঝড়ে ৩টি অটোরাইস মিল ও পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি শিল্প ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। একই মালিকের ৫টি মুরগির সেড ভেঙে প্রায় ৪৩ হাজার ডিম দেওয়া মুরগি মারা গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সারে চার কোটি টাকা। তিনটি রাইস মিলে ক্ষতির পরিমাণ সবমিলিয়ে প্রায় ২৭ কোটি।

ঈদের আগের দিন এক দফা ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পর মঙ্গলবার আবারও রাত ১১টায় প্রবল বেগে ঝড়ের আঘাতে পৌর এলাকার ইসালামপুর আল তাহসিন এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের ৭ কোটি, শাখারুঞ্জ মা রেজিয়া এগ্রো লিমিটেড অটোরাইস মিলের ১৭ কোটি, একই মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান বটতলী মোল্লা অটোরাইস মিল, মোল্লা রাইস মিল ও মোল্লা পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির ৭ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, তুলশিগঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যানের মোল্লা পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি পরিদর্শন করে দেখেছি ডিম দেওয়া মুরগি ২৩ হাজার ও পাকিস্তানি কক জাতের ২০ হাজার মুরগি মারা যাওয়ায় তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও আমার অধিদপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি। 

ক্ষেতলালের ইসলামপুর এলাকার অটোরাইস মিল ম্যানেজার মারুফ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের মিল লন্ডভন্ড করে গেছে এতে প্রায় ছয় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে আমাদের ১শ জন শ্রমিক কাজ করে, তারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। 

মা রেজিয়া এগ্রো লিমিটেড অটোরাইস মিল মালিক মোস্তাফিজার রহমান দুদু বলেন, আমি দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে পরিশ্রম করে দেশে এসে এই প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছি। আমার মিলের প্রায় ২শ জন শ্রমিক কাজ করত। গত মঙ্গলবার রাতে ঘূর্ণিঘড়ে আমার মিলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মিলে চাল মজুদ ছিল দেড় কোটি টাকার, সরকারি বরাদ্দের চাল ছিল ৪০ মেট্রিক টন ও মিলে অবকাঠামো, মেশিনারিজসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সতের কোটি টাকা। আপনাদের মাধ্যমে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

মোল্লা রাইস মিল ও মোল্লা পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি মালিক ও তুলশিগঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান হাইকুল ইসলাম লেবু বলেন, দুর্যোগে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমার ৫টি মুরগির সেট মাটির সাথে বিলীন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপসহ আমি ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি স্থান পরিদর্শ করেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে সরকারি ত্রাণ সহায়তার কার্যক্রম চলমান থাকবে।

পিডিএসও/হেলাল