সিরাজদিখানে লোকসানে মেহেদি চাষ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২০, ১৬:৪৮

নাজমুল মোল্লা, সিরাজদিখান

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে যেভাবে নুয়ে পড়েছে দেশের ব্যবসা বাণিজ্য, তেমনি দেশের গ্রামগঞ্জেও এর প্রভাব পড়েছে। প্রভাব পড়েছে অল্প পরিসরে মেহেদি চাষিদের লাগানো কিছু মেহেদির কৃষিখাতেও। 

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানের বালুচরে ব্যাপকভাবে মেহেদি চাষ হয়। এখানকার মেহেদি ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় চাহিদা পূরণ করে। প্রত্যেকটি ঈদের বাজারে থাকে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তবে করোনার কারণে ঢাকায় মানুষ নেই, দোকান পাট বন্ধ, তথা দেশের এই লকডাউন পরিস্থিতিতে মেহেদি চাষিদের অবস্থা তেমন ভালো নেই বলেই জানান মেহেদী চাষি আবদুল বারেক।  

সিরাজদিখানে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাহে রমজানের পনেরো রোজা থেকেই মেহেদি চাষী ক্রেতা বিক্রেতাদের ব্যস্ততা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, মেহেদি চাষীদের ব্যস্ততা ততটা ব্যাপকতা রূপ নেয়। তখন আর শুধু একক মেহেদি চাষী কেন্দ্রীক ব্যবসা সীমাবদ্ধ থাকে না।

ঈদের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসে মেহেদি চাষীদের পরিবারের সবাই হাত বাটায় মেহেদি কাটা থেকে শুরু করে আঁটিবাধা বুজারূপে প্রস্তত করা থেকে বাজারে নিয়ে বিক্রি করা পর্যন্ত। কারণ মেহেদি ব্যবসায়িকভাবে সবচাইতে বেশি বেচাকেনা হয় ঈদের বাজারে এবং রমজানের আর্ধেক মাস থেকেই একটা ভিন্ন রকম আনন্দ উল্লাস উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা দেয় মেহেদি চাষীদের পরিবারে। কিন্তু এবার তেমনটা নজরে পড়েনি। কোনোমতে মেহেদি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। সেখানেও আছে বাধা-বিপত্তি, কখনো যানবাহন চলাচল বন্ধ, কখনো ঢাকায় নিয়ে মেহেদি বিক্রি করার কোনো ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না এই ভয়াবহ করোনাকালে।  

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চরে প্রায় একশটি পরিবার মেহেদি চাষের সাথে জড়িত, তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মেহেদি চাষীদের কোনো সরকারি অনুদান দেওয়া হয় না, মেহেদী চাষ সম্প্রসারণের জন্য শুধু তাদের পরামর্শ ও কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হয় মাত্র। কিন্তু করোনার জন্য এবার অন্যান্য চাষিদের মতো মেহেদি চাষিদের অবস্থাও খারাপ।

পিডিএসও/হেলাল