শ্রীমঙ্গলে হার্ড লাইনে পুলিশ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২০:৩৯

শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মৌলভীবাজার জেলায় লকডাউন কার্যকরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। এনিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রবেশমূখে চেকপোষ্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। 

করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে গত ১৩ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে মৌলভীবাজার জেলা লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশনা জারি হরা হয়। লকডাউন কার্যকরে মাঠে নামে প্রশাসন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরের কাঁচাবাজার রেলওয়ে মাঠে স্থানান্তর, দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা, জীবাণুনাষক ওষুধ ছিটানো, হোম কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাপনা কার্যকর, এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন, বহিরাগতদের আগমন তদারকিসহ করোনা ভয়াবহতা নিয়ে মানুষের মধ্যে জনসচেতনা সৃষ্টিতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে।  

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে লকডাউন ভেঙে হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী এর নামাজে জানাজায় হাজারো মানুষের অংশ নেয়ার ঘটনায় সারাদেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এরইমধ্যে সরাইল থানার ওসি ও এ্এসপি (সার্কেল) কে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে চেকপোস্ট বসিয়ে সব ধরণের যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।  মুছাই শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও মৌলভীবাজার জেলা সীমান্ত এলাকা।

রোববার দুপুরে সরেজমিন এই স্থান পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় শ্রীমঙ্গল থানার ওসির আব্দুছ ছালেক, ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা, ওসি  (অপারেশন) নয়ন কারকূন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চেকপোষ্ট তদারকি করছেন। পুলিশ সদস্যরা নিত্য প্রয়োাজনীয় পণ্য ও ওষুদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করছেন। জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত নয় সিএনজি অটো রিক্সাসহ এমন অনেক যারবাহন ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসময় অনেক কাভার্ড ভ্যান এর দরজা ও পিকআপ ভ্যানের ত্রিপল খুলেও তল্লাশি করছেন। 

এসময় শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, লকডাউন কার্যকর ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে প্রবেশমুখে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জরুরি পরিষেবা বহির্ভুত বহিরাগত কোনও ব্যক্তি বা যানবাহন শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ বা বাহির হতে দেয়া হবে না। যে কোনও মূল্যে আমরা লকডাউন কার্যকর করতে  বদ্ধপরিকর। 

তিনি বলেন, অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সড়কে চলাচলকারী সব ধরণের যানবাহনের চালকদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কারো শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হলে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।