করোনা আক্রান্ত চেয়ারম্যান যে তথ্য দিলেন

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৬:৪৬

আল-আমিন মিয়া,পলাশ(নরসিংদী)

কোনো উপসর্গ ছাড়াই  নরসিংদীর পলাশের এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ একই পরিবারের ৩ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের একটি টিম ওই ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের ১৪ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠালে শনিবার সন্ধ্যায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাতিজির করোনা পজেটিভ আসে।

করোনা আক্রান্ত ইউপি চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলাম গাজীর বাড়ি উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের গাবতলি গ্রামে। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল জিনারদী ইউনিয়নের গাবতলি গ্রামে পলাশের দ্বিতীয় করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর পরদিন ১৫ এপ্রিল ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বড় ভাই নমুনা দিলে তারও পজেটিভ আসে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম গাজীর সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি জানান, আমাদের গ্রামে প্রথম করোনা রোগী হিসাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীর স্বামী (৬২) শনাক্ত হয়। এরপর ওই বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসা সন্দেহে তার পরিবারের সদস্যরা ও আমার বড় ভাই নমুনা দিলে শুধু আমার ভাইয়েরই পজেটিভ আসে। অথচ  তার স্ত্রী-সন্তানরা সারাক্ষণই সংস্পর্শে থাকার পরও তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে গত ১৬ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের একটি টিম এসে আমার পরিবারের ১৪ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেলে শনিবার সন্ধ্যায় আমার ও আমার ভাতিজির রিপোর্ট পজেটিভ আসে। অথচ আমার বড় ভাইয়ের বা ওই বৃদ্ধের কোনো সংস্পর্শেই আমরা যাইনি। তাছাড়া আমিসহ আমরা তিনজনই একদম আগের মতোই স্বাভাবিক।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের কাশি-জ্বর সহ করোনার কোনো উপসর্গই নেই। তাই, আমাদেরকে বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

কোনো ওষুধ দেওয়া বা ডাক্তারের টিম এসে শারীরিক অবস্থা দেখতে আসে কি না জানতে চাওয়া প্রতিদিনের সংবাদ এর পক্ষ থেকে।

জবাবে করোনা আক্রান্ত চেয়ারম্যান বলেন, কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। তবে রং চা আর গরম পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফোনের মাধ্যমে শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে খবর নিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল-বেলালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, জিনারদী ইউনিয়নের গাবতলি গ্রামের করোনায় আক্রান্ত তিন রোগীরই শারীরিক অবস্থা ভালো। তাই, তাদেরকে বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে রেখে হটলাইনের মাধ্যমে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এক সাপ্তাহ পরপর তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হবে। 

পিডিএসও/মা