জানাজায় লাখো মানুষ

সরাইলের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, এএসপিসহ ২ ওসি প্রত্যাহার

৮ গ্রামের বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৬:৩৮ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৭:০২

ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে লকডাউনের মধ্যেই প্রখ্যাত আলেম জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষ জমায়েত হওয়ায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সরাইল থানার দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ এএসপি সার্কেলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের আদেশে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহার করে নেওয়া কর্মকর্তারা হলেন—সরাইল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মাসুদ রানা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন টিটু এবং ওসি (তদন্ত) নূরুল হক। 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, শনিবারের ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, একসঙ্গে লাখো মানুষ জমায়েত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮টি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়েছে। আগামী ১৪ দিন তারা কোয়ারেন্টাইনে থাকবে। 

লকডাউনে থাকা বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা জানেন না। 

রোববার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত যাত্রীরা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পায়ে হেঁটে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ, মাধবপুর, ভৈরব ও নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এছাড়া ১১ এপ্রিল থেকে লকডাউন শুরু হলে ও রোববার শহরে যানবাহন এবং জনসাধারণের চলাচল অনেকটাই বেড়েছে। 

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার জানান, লকডাউন চলাকালে ওই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের খাদ্য সহায়তা দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে। 

গণজমায়েতের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

পিডিএসও/হেলাল