করোনা : সিংগাইরে পত্রিকার হকাররা ভালো নেই

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৫:২৭ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৫৪

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

পত্রিকার হকার মো. শহিদুল্লাহ (৫০)। উপজেলার ঘোনাপাড়া মহল্লায় ৮নং ওয়ার্ডে সরকার থেকে লীজ নেওয়া জায়গায় বাস করেন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার। ২০ বছরের হকার পেশায় দিন কাটছে তার। পত্রিকা বিক্রি করে যে আয় হয়, তাতে সংসার চলে। কিন্তু টাকা জমানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া তিনি ভেবেছেন—এভাবেই হয়তো জীবনটা কেটে যাবে। কখনও ভাবেননি সংসারে তীব্র অভাব আসবে। 

করোনাভাইরাসের কারণে মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ২৬ মার্চ দেশের সমস্ত অফিস-আদালত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা উপজেলা পর্যায় আসা বন্ধ হয়ে গেলে পত্রিকার হকাররা বেকার হয়ে পড়েন। উপার্জনও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিন এনে দিন খাওয়া এ মানুষগুলি হতাশ হয়ে পড়েছেন। পড়েছেন বিপাকেও। বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী যা ছিল তাও শেষ। আবার সরকার ছুটি বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করাতে এদের চিন্তার যেন শেষ নেই। চোখে মুখে তাদের অভাবের ছাপ। সংসার কিভাবে চালাবেন এই চিন্তায়। পৌরসভা ও বিত্তবানরা সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী দিলেও তা যথেষ্ট না।

সরেজমিনে দেখা যায়, হকার শহিদুল্লাহর বয়স্ক মা, স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার। একজনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোনোরকম দিন যাচ্ছিল। কিন্তু করোনার কারণে পত্রিকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। এ সহজ সরল মানুষটি হয়ে যান বেকার। লোক লজ্জার বয়ে কারও কাছ হাতও পাত্তে পারছেন না। এই পরিচিত মুখটি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আর বাড়িতে টুকিটাকি কাজ করে সময় পার করছেন। আমাদের দেখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। দেখে মনে হচ্ছে, কত কষ্ট মনের ভেতর। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফজর নামাজ পড়ে গাবতলি থেকে পত্রিকা এনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পত্রিকা পৌঁছায় দিয়েছি। একটু দেরি হলে আমাকে ফোন দিত। আজ করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছি। কত মানুষের সাথে পরিচয় ছিল আমার। এই বিপদ মুহূর্তে কেউ একটি ফোনও দেয় না। খোঁজও নেয় না। নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন, কে রাখে কার খবর। 

একই চিত্র উপজেলার অন্য হকারদেরও।

পিডিএসও/হেলাল