প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ১৩:০৯ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ১৪:০২

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
সাংবাদিক আল মামুন জীবন

লকডাউনের মধ্যে যাত্রীভর্তি মাইক্রোবাস প্রবেশে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে পুলিশ। 

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর রহমান আতিক বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের থানার এসআই জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে আল মামুন জীবনকে আসামি করা হয়। 

আল মামুন জীবন প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। 

গত ১১ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। লকডাউনের মধ্যে ১২ এপ্রিল সকালে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোর ৬ জন যাত্রী আহত হয়। লকডাউনের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে গাড়ি প্রবেশে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক মামুন। 

মামলার বরাতে ওসি আতিক বলেন, পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনকে কটাক্ষ করে গত ১২ এপ্রিল আল মামুন জীবন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। 

স্ট্যাটাসে লেখা ছিল—অযোগ্য প্রশাসন, প্রথমে রুপা গাড়ি ঢুকতে সক্ষম, ভাইরাস নিয়ে আসলো। ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবি ছিল আগেই লকডাউন। ভাইরাস ঘরের ভেতরে নিয়ে এসে লকডাউন করা হলো ঠাকুরগাঁও জেলা। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবেশদ্বার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাইক্রোবাস এলো। সেটা আবার সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হলো। 

আপনারা কি মনে করেন ডিসি সাহবে, এসপি সাহেব। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বুঝে না। আপনারা ত্রাণ বিতরণের ছবিতোলা নিয়ে যে ব্যস্ত তার বড় প্রমাণ এটা। এদিকে ত্রাণের জন্য রাস্তায় নেমে অবরোধ করার ঘটনাও ঠাকুরগাঁওয়ে ঘটেছে। না পারলে বদলি হয়ে অন্য এলাকায় চলে যান। 

আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি। ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য একটুও মানবতা নেই আপনাদের মনে। লোক দেখানো ডিউটি এই মহামারিতে ঠাকুরগাঁওবাসী আশা করেনি। ঠাকুরগাঁওকে রক্ষার দায়িত্ব ছিল আপনাদের ওপর, সেখানে ঠাকুরগাঁওকে ঝুঁকিতে ফেললেন আপনারা। আল্লাহ আপনাদের ক্ষমা করবেন না। 

ওসি আতিক বলেন, এই স্ট্যাটাসে পুলিশ ও প্রশাসনকে কটাক্ষ করে সাংবাদিক মামুন ইচ্ছাকৃত ও আক্রমণাত্মভাবে মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য পরিবেশন করেছেন। এই স্ট্যাটাসে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। যাতে পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

আল মামুন জীবন বলেন, আমি এদেশের একজন নাগরিক হয়ে আমার ফেসবুকে সত্য কথাগুলো স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলাম। পরে প্রশাসন থেকে আমার এই স্ট্যাটাসের প্রতিবাদ করলে তাৎক্ষণিক স্ট্যাটাস মুছে ফেলি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে পুলিশ। 

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকরা।

পিডিএসও/হেলাল