পাবনার সাঁথিয়ার হাটবাজারে উপচেপড়া ভীড়

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ১৯:০৭

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে প্রতিনিয়ত বসছে সাপ্তাহিক হাট। বাজারেরও একই চিত্র লক্ষ করা যায়। বৃহস্পতিবার উপজেলার বোয়াইলমারী,কাশিনাথপুর হাটে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। এতে সামাজিক দূরত্ব মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ। অপরদিকে ধুলাউড়ি,বনগ্রাম হাটেরও একই অবস্থা। প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাটবাজার বসিয়ে জনসমাগম সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগে প্রকাশ করেছে এলাকার সচেতন মহল। 

বৃহস্পতিবার সরজমিনে উপজেলার বোয়াইলমারী,করমজা চতুর বাজার, কাশিনাথপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহের মতো মাছ, কাঁচা তরকারি ও  নিত্য প্রয়োজনীয় জিানসপত্র নিয়ে কোনো নিয়ম না মেনে একসঙ্গে দোকানিরা হাট বসায়। সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হচ্ছে মাছবাজারে। এদের অবস্থা দেখে বুঝার উপায় নেই এখানে কোনো সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরও এসব হাটবাজারে লোকসমাগম হচ্ছে প্রচুর।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি কাঁচাবাজার ও পাইকারি বাজার খোলা জায়গায় বসানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে উপজেলার আতাইকুলা হাট-বাজার পার্শ্ববর্তী কলেজ মাঠে স্থানান্তর করেছেন উপজেলা প্রশাসন। তবে এখনো অন্যান্য হাটবাজার গুলোতে স্থানান্তর না হওয়ায় সামজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না।

হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা অনেকে বলেন, আমাদের বসার জন্য যদি আলাদা একটি জায়গা করে দিত তাহলে এভাবে গাদাগাদি করে বসতে হতো না। হাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আসা সানোয়ার বলেন, সকালে কেনাকাটা করতে বাজারে যেতে হয়। আজ যেহেতু হাটের দিন তাই হাটে এসেছি কাঁচামাল কিনতে। এতগুলো দোকান একসাথে তাই সামজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না এটাই স্বাভাবিক।

স্থানীয় বাসিন্দা আকতারুজ্জামান বলেন, সামাজিক দুরত্ব না মেনেই ব্যবসায়ীরা হাট বসিয়েছে। এতে করে করোনাভাইরাস ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।প্রশাসনের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেয়া। তিনি বলেন, আতাইকুলা অনেক বড়হাট সেটা স্থানান্তর করা হল কিন্তু এগুলো কেন করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামাল আহম্মেদ বলেন, আমরা ইতমধ্যে সবচেয়ে বড়হাট আতাইকুলা হাট-বাজারকে স্থানান্তর করেছি। আগামীতে এগুলোকেও স্থানান্তর করবো। সাঁথিয়া বোয়াইলমারী হাটকে ইতমধ্যে সরকারি কলেজ মাঠে জায়গা নির্ধারণ করেছি এবং ইউনিয়নের হাটগুলোকে চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেয়া আছে কাঁচাবাজারগুলো যেন খোলা স্থানে বা মাঠে করা হয়। এতে একদিকে যেমন সামজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। অন্যদিকে মানুষজনও তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে পারবে।

পিডিএসও/তাজ