ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম ঘুরছে শহর-গ্রামে, প্রশংসায় এমপি জিল্লুল

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ১৫:০৫

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্ক নয় সচেতন থাকুন, ডাক্তারের কাছে রোগী নয় রোগীর কাছে ডাক্তার- এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এ সার্ভিস চালু হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সকল প্রকার চেষ্ঠা করে চলছে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম ও তার পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী আশিক মাহমুদ মিতুল। সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যদিয়ে আর্তমানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন ব্যতিক্রমী উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে। ডাক্তাররা যখন রোগীর সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন তখনই রোগীর বাড়ি ডাক্তার পাঠানোর যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এ সেবা।

হটলাইনে ফোন করলেই ডাক্তার ও নার্সরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা ও ওষুধ দিচ্ছেন রোগীদের। সম্প্রতি এ চিকিৎসা সেবার কিছু ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে সেটা ভাইরালও হয়েছে। সাধারণ মানুষ এ জন্য স্থানীয় সংসদের প্রশংসা করেছেন। হট লাইন নম্বরগুলো হলো, ০১৭৯৮-৬২৭৩৩৬, ০১৮১৬-৮৭১৬২০।

প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ৩টি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে শত শত রোগীকে সেবা দিচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা। 

পাংশার স্থানীয় এক সংবাদ কর্মী বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে খাদ্যসহায়তা দেয়ার পাশাপাশি রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও তার পুত্র নির্বাচনী এলাকায় মানুষের পাশে থেকে সেবা দিতে কাজ করছেন। এ জন্য এলাকার মানুষের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের ডা. তিতুমীর বিশ্বাস সহ কয়েক জন চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে এমপি সাহেব ও তার পুত্র পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ ১০ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করেছেন। এতে মানুষের সেবা দেয়ার আরও বড় একটা সুযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পেতে কোনো জরুরি রোগী হাসপাতালে না আসতে পারে তাহলে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মোবাইল নম্বরের হটলাইনে ফোন করলেই বাড়িতে সে সেবাটা পাবে বলে জানান তিনি।

সারাদেশের থেকে পুরোপুরি উল্টো রাজবাড়ীর ৩টি উপজেলার চিত্র। রাজবাড়িতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন রাজবাড়ী ২আসানের এমপি। জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপির নির্দেশনায় তার পুত্র তরুন প্রজন্মের নেতা আশিক মাহমুদ মিতুলের সহযোগীতায় চলছে ভ্রম্যমান মেডিকেল টিম। ৩টি উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স ঘুরছে গ্রামে গ্রামে। শুধু চিকিৎসা সেবাই নয় পাশাপাশি ওষুধও দিচ্ছেন ফ্রি। শুধু চিকিৎসা সেবাই নয় মোঃ আশিক মাহমুদ মিতুলের ব্যক্তিগত অর্থায়নে বালিয়াকান্দি, কালুখালী, পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ ও ডাক্তাদের জন্য পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)সহ ৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। 

৩টি মেডিকেল টিমের রয়েছে ৩টি হট লাইন নম্বর। যে যখন ফোন করছে সেখানেই পৌঁছে যাচ্ছে ডাক্তার। এই মেডিকেল টিমের দায়িত্বে রয়েছেন কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু। 

কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু, বলেন, ভ্রম্যমান মেডিকেল টিম মাননীয় সংসদ সদস্যের অর্থয়ানে তার দিক নির্দেশনায় দেখাশুনা করেন তার ছেলে আশিক মাহামুদ মিতুল, এবং হট লাইন নম্বর আমার কাছে থাকে কারন আমি ৩টি উপজেলার সকল এলাকা গুলো চিনি। আমাদের যে কোনও এলাকা থেকে ফোন দিলেই সেখানেই মেডিকেল টিমকে পাঠানো হয়। 

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রাজবাড়ী ২আসানের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিমের ছেলে আশিক মাহমুদ মিতুল বলেন, আমার বাবার নির্দেশ-এ আমি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করেছি আমাদের ৩টি উপজেলার মানুষের জন্য। আমাদের রাজবাড়ী আসনের কোনও মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে কষ্ট পেতে না হয় সে কারনেই এই ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম চালু করেছে। বর্তমানে করোনার ভাইরাসের কারনে সব কিছুই এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। কোনও যানবাহন চলালাচল করছে না। যার ফলে মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিতেও হাসপাতালে আসতে পারছে না। তার পরে আমাদের ইউনিয়ন গুলো অনেক বড় বড়। একটি ইউনিয়ন থেকে হাসপাতাল গুলোতে আসতে অনেক সময় লেগে যায়। সে কারনেই জনসাধারণের কথা চিন্তা করে এই ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম চালু করেছি।

তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয় বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। এমপি পুত্র মিতুল আরো বলেন, এর পাশাপাশি আমরা ২৩হাজার মানুষের পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী সহযোগিতা করেছি। এবং দু এক দিনের মধ্যে ৩টি উপজেলার ৬মাস থেকে ২বছরের শিশুদের জন্য শিশু খাদ্য বিতরণ করা হবে।

পাংশা উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নিপা নন্দী বলেন, আমাদের এই পাংশা উজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ আমাদের সবার প্রিয় এমপি সাহেব অনেক চিকিৎসা উপকরণ দিয়েছেন। যার মধ্যে আছে ইসিজি মেশিন, প্লাস অক্সি মিটার, গুলোকো মিটার এবং এর সাথে ইমারজেন্সিতে আরো প্রয়োজনীয় জিনিস তিনি দিয়েছেন। এবং ভবিষ্যতেও আমাদের আরো যা যা প্রয়োজন তা তিনি সাপ্লাই দিবেন। এসকল চিকিৎসা উপকরণ আমাদের কাছে হস্থান্তর করেন এমপি মহোদয়ের পুত্র আশিক মাহমুদ মিতুল ভাই। তাছাড়ও মিতুল ভাই আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাইরে বের হতে বা আসা-যওয়া যাতে কোনও সমস্য না হয় সে কারেন আমাদের জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এর বাইরেও এমপি মহোদয় ও তার ছেলে মিতুল ভাই পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দিতে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন। যে অ্যাম্বুলেন্স ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম গ্রামে গামে গিয়ে সেবা দিচ্ছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ শাফিন জব্বার বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যি প্রসংসনীয়। এই মুহূর্তে মানুষ হাসপাতালে আসতে পারে না। সে কারনেই এমপি জিল্লুল হাকিম ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করেছেন। যার কারনেই মানুষ বাড়িতে বসেই সেবা পাচ্ছে।

বালিয়াকিন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার একে এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী ২ আসনের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিম মহোদয় ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম চালু করেছেন। যার ফলে বালিয়াকান্দি সহ ৩টি উপজেলাতেই এভাবে ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম দিয়েছেন। অবশ্যই এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিছেন তিনি। আমরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

রজাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিলে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো মানুষ যেন ক্ষুধা এবং চিকিৎসা সেবায় কষ্ট না পায় সেই জন্য সকলের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছি।

পিডিএসও/মা