শ্রীমঙ্গলে সরকারি চাল উদ্ধার

৩ জনকে আসামি করে মামলা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ১১:০৯

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কালাপুর ইউনিয়নে সরকারি চাল চুরির অভিযোগে আশিক মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তি গ্রেফতার এবং ইসলাম মিয়া নামের অপর এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার গভীর রাতে আশিককে গ্রেফতার করে দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। আশিক ওই ইউনিয়নের ভৈরববাজার সংলগ্ন নয়ানশ্রী গ্রামের মৃত আশ্বদ মিয়ার পুত্র।

পুলিশ জানিয়েছে, আশিকের বাড়িতে ১০ টাকা কেজি সরকারি চাল মজুদ করে রাখা আছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৩টায় আশিকের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। আশিককে আটকের পর তাকে উদ্ধার এবং চালের বস্তা চুরি সংক্রান্ত বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা চালায় একটি মহল। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জেনে গেলে তাদের এমন উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি ও অভিযান হবে এমন তথ্য আগেভাগেই জানতে পেরে আশিকের লোকজন অনেক চালের বস্তা সড়িয়ে ফেলে বলে জানা গেছে। আশিককে আটক করে থানায় নেওয়ার সময়টিতে তার লোকজন এ চালগুলো অন্য সড়িয়ে ফেলে বলে ধারণা করেছে এলাকাবাসী।

কালাপুরের এলাকাবাসী তুহিন চৌধুরী ও মো. জাকারিয়া বলেন, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। তারপরও যা জানতে পারলাম তাহলো, সিএনজি অটোরিকশা করে ১০ টাকা দামের সরকারি ত্রাণের চাল বাজারে নিয়ে যাবার সময় সিএনজি থেকে পড়ে যায়। তখন উৎসুক লোকজন সিএনজি চালককে জিজ্ঞেস করে জানতে পারে এগুলো কালাপুরের আশিক মিয়া এবং ইসলাম মিয়ার চাল। এ সময় তারা জানান আশিক মিয়ার কাছ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে ১৫শ টাকায় ২ বস্তা ৩০ কেজি করে ৬০ কেজি চাল ক্রয় করেন।

ধৃত আশিক ও ইসলাম মিয়া পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে একই এলাকার পূর্ব মাজদিহি গ্রামের রঙ্গু মিয়ার ছেলে ইসলাম মিয়া (৫০) ও বরুনা  এলাকার মৃত মছলন মিয়ার ছেলে সজু মিয়া (৩৮) নামে অপর ২ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। রাতেই এই ৩ জনকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুছ ছালেক বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের চাল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে ইতোমধ্যে আশিককে গ্রেফতার এবং ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সরকারি চাল চুরির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ সময় ৫ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

পিডিএসও/হেলাল