কিশোরগঞ্জে বেগুন চাষীদের মাথায় হাত

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ১০:১৯

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে এবার বেগুনের ফলন ভালো হলেও আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। বিক্রির পর উৎপাদন খরচ নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এমতাবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের চাষীরা।

করোনাভাইরাসের জন্য সরকারের অঘোষিত লকডাউনে চরম বিপাপে কিশোরগঞ্জের, করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের সবজি চাষি মো. বাচ্চু মিয়া। তার এক বিঘে জমিতে প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ মন বেগুন উৎপাদিত হলেও তার ন্যায্যমূল্য দুরের কথা, বাজারে পৌঁছানোর পর রিকশা ভাড়ার টকাই উসুল হচ্ছে না।

জানা যায়, গতকাল তিনি হাটে ৫ মন বেগুন নিয়ে গেলে তা মাত্র ২০০ টাকা বিক্রি করেন যা প্রতি কেজির দাম পড়ে মাত্র ১ টাকা। তার রিকশা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলে মোট খরচ হয় ২০০ টাকার বেশি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কোনো উপায় না পেয়ে বাড়ি এসে সমস্ত বেগুন ক্ষেত কুপিয়ে কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে এলাকার কয়েকজন বুঝিয়ে তাকে শান্ত করেন।

কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, প্রতিদিন এত খাটাখাটনির পরও যদি বাজরে নিয়ে গেলে নিজের গাইডেত্তে (হাত থেকে) রিকশা ভাড়া দিতে হয় তাহলে কার মাথা ঠিক থাকে। কিন্তু ফসলের দিকে তাকিয়ে শুধু নিজেকে বুঝ দেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এমন অভিযোগ আরেক কৃষক সুলতান মিয়ারও। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৩ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি, বাজারে নিয়ে গেলে বেগুনের দিকে কেউ চায়াও দেহে না, ৫-১০ কেজি যা বিক্রি হয় তা দিয়ে রিকশা ভাড়ার খরচও উঠেনা। এখন এই অবস্থায় সংসার চালানোও দায় হয়ে উঠেছে।

পিডিএসও/তাজ