করোনা ঝুঁকি নিয়ে টঙ্গীতে অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী পরিবহন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪৫

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গী একটি শিল্প নগরী। এখানে কয়েক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করে লাখো মানুষ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা সংক্রমণ রোধে সকল কারখানা বন্ধ রয়েছে। আর অলস সময় পার করছে কারখানার সেসব শ্রমিকরা। ইতোমধ্যেই গাজীপুরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দূরপাল্লার সাধারণ যানবাহন বন্ধ থাকলেও যোগাযোগ থেমে নেই। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের করতে দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেকে এখনো যাওয়া আসা করছেন অনেকেই।

জরুরি প্রয়োজনে পরিবহনের একমাত্র বাহন হিসেবে রয়েছে কিছু সংখ্যক রিক্সা,ভ্যান ও ইজিবাইক। এসব পরিবহন চলাচলেও প্রশাসনের নজর রয়েছে। তবে জরুরি পরিসেবার আওতায় থাকা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনে কথা থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সে করে টঙ্গী থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায়  অনেক লোক যাতায়াত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্সে অবাধে যাত্রী পরিবহনের ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে চলছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা থেকে মো.মজিদুল হক একটি অ্যাম্বুলেন্সে পরিবার নিয়ে টঙ্গীতে ফিরেছেন। গত এক সপ্তাহ আগে তিনি বাড়িতে চলে যান। তিনি জানান, জনপ্রতি ৯ শত টাকা ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে তিনি এসেছেন। এই সুযোগে বাড়তি ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। মাইক্রোবাসের সামনে জরুরি ওষুধ, পিপিই, কখনো লাল কাপড় ও অ্যাম্বুলেন্সের আদলে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স চালক আবুল হাসনাত জানান, একজনকে রোগীর সিটে শুয়ে দিয়ে অযথা স্যালাইন ও বেন্ডেজ লাগিয়ে রাখায় চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজর এড়িয়ে চলে।

গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো.খাইরুজ্জামান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই অ্যাম্বুলেন্সের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ- পুলিশ কমিশনার(অপরাধ দক্ষিণ) মো.শাহাদত হোসেন বলেন, টহল পুলিশকে এ বিষয়টি অবগত করা হবে।

পিডিএসও/তাজ