করোনার প্রভাবে দিশেহারা শ্রীমঙ্গলের দুগ্ধ খামারিরা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:১৮

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলে করোনা প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারাীরা। দুধের চাহিদা না থাকা সেই সাথে পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন লোকসান গুনছেন উপজেলার খামারীরা। সোমবার এ নিয়ে কথা হয় শহরের  বারিধারা এলাকার বাসিন্দা  পশু খামারি নুর মোহাম্মদ এর সাথে। নিজের বাড়িতে নিজ উদ্যোগে এই যুবক গড়ে তুলেছেন মোহাম্মদী পোল্ট্রি ফার্ম ও ওয়াসিফ এগ্রো ফার্ম নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। তার এই ফার্ম থেকে দৈনিক প্রায় ৪ শ' লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এই দুধ হোটেল ও বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে তিনি বেশ সাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন তিনি। আগের মতো দুধগুলো বিক্রয় হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন  অনেক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে । এই সমস্যাটা শুধু নুর মোহাম্মদের একার নয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রায় ৮০টি দুগ্ধ খামারিরা এখন তাদের দুধ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন।

শ্রীমঙ্গলে দুগ্ধ খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে মিষ্টির দোকান, চায়ের দোকান বিভিন্ন বেকারিসহ অনান্য খাবারের দোকান। এই দোকানগুলোতে কাঁচামাল হিসেবে গরুর দুধের চাহিদা অনেক। বিষেশ করে মিষ্ঠান্ন উৎপাদনে দুধের চাহিদা বেশি কিন্তু  করোনায় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান  বন্ধ  থাকায় দুধের চাহিদা নেই বললেই চলে। তবে সবকিছু বন্ধ থাকলেও দুধ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। গরুর খাবার ও অন্যান্য খরচ দিয়ে এখন হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

খামারি নুর মোহাম্মদ বলেন, আমার ফার্ম থেকে দৈনিক প্রায় ৪০০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। যা দিয়ে ১০ জন শ্রমিকসহ নিজের পরিবারের খরচ বহন করি।  চাহিদা না থাকায় তার উৎপাদিত দুধের বেশির ভাগই গাভীর বাচ্চাকে খাওয়াতে হচ্ছে। কিছু দুধ আমরা ছানা তৈরি করে রাখছি। এতে মারাত্মক লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। খামার প্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। বাজারে পশু খাদ্যর দামও বেশি।  এভাবে চলতে থাকলে তাকে পথে বসতে হবে।

উপজেলার আরেক খামারি সঞ্জিত দেব বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। প্রায় প্রত্যেকটি খামারের মালিকরা পথে বসতে শুরু করেছেন। দুধের দাম কমিয়েও বিক্রয় করতে পারছি না আমরা। এই অবস্থায় আমরা কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। তাছাড়া এখন  গরুর খাদ্যে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অনেক লোকসান হচ্ছে। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুহুল আমিন জানান, শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৮০টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকায় উৎপাদিত দুধ বাজারজাত  করতে পারছে না খামারীরা।

তিনি বলেন, আমরা সরকারিভাবে দুগ্ধ খামারিদের তালিকা করছি। দুগ্ধ খামারীর বিষয়টি সরকারের নজরে আছে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার পর সরকার এ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।