পেকুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার : হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৫০

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজপলার উত্তর মেহেরনামায় জন্নাতুল ফেরদৌস (২২) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মা নুরুন্নাহার দাবি করেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

নিহত গৃহবধু পেকুয়া সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার লিবিয়া প্রবাসী বাদশা মিয়ার স্ত্রী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী এলাকার জাফর আলমের মেয়ে।

সোমবার দুপুরে প্রবাসী বাদশা মিয়ার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ। এ সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

নিহতের মা নুরুন্নাহার বলেন, দুই বছর আগে উত্তর মেহেরনামার হাছিম আলীর ছেলে বাদশা মিয়ার সাথে সামাজিকভাবে তার মেয়ে জন্নাতুলের বিয়ে হয়। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বয়স এক বছর। এরপর মেয়ের জামাই লিবিয়া পাড়ি জমান। তিনি আরও জানান, মেয়ের জামাই লিবিয়া চলে যাওয়ার পর থেকে মেয়ের শ্বাশুড়ি আনোয়ারা, তার জাঁ ও দুই ননদ মিলে বেশ কয়েক বার মারধর করে। এ ঘটনা নিয়ে কয়েকবার বিচার শালিসও হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাঈল সিকদার ও ইউপি সদস্য মো. ইউনুছ বেশ কয়েকবার মারধর আর নির্যাতনের বিষয়ে মিমাংসা করে দেন। কয়েকদিন আগেও তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে ইউপি সদস্য ইসমাঈলের মধ্যস্ততায় তার মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যায়।

সোমবার সকালে তার বোন ফরিদাকে ফোন দেন জন্নাতুল। ফোনে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করছে বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি তাকে সত্যি মেরে ফেলা হয়েছে।

নিহতের বোন ফরিদা বলেন, আমার বোনকে বেশ কয়েকবার নির্যাতন করেছে তারা। তার প্রতিবেশি হিসাবে স্থানীয় একজন আমাকে জানায় বোন গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে। আমরা গিয়ে দেখি তার লাশ মাটিতে শুয়া অবস্থায়। তাকে গলাটিপে হত্যা করে ফাঁস লাগানোর কথা প্রচার করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

লাশ উদ্ধারকারী পেকুয়া থানার এসআই সঞ্জিত বলেন, আমরা যাওয়ার পর লাশটি মাটিতে শুয়া অবস্থায় দেখেছি। আত্মহত্যা করেছে নাকি মারধরে মারা গেছে তা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল আজম বলেন, গৃহবধূর লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল