১২ দিন অতিবাহিত, পুলিশকে ম্যানেজ

নবীগঞ্জে সাংবাদিক পেটানো ইউপি চেয়ারম্যান এখনো অধরা

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ১৬:৪৭ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ১৭:২৬

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের সংবাদ ও ফেসবুকে লাইভে প্রচার করার জেরে আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন সাংবাদিককে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পেটানোর ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও তাকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চেয়ারম্যান হারুন প্রতিনিয়ত এলাকায় যাতায়াত করে থাকলেও অদৃশ্য কারণে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ, এমন অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। হারুনের মোবাইল নাম্বার সচল রয়েছে, ফেসবুকে পোস্ট করছেন নিয়মিত। তারপরও পুলিশের দাবি, বিভিন্নস্থানে অভিযানের পরেও তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্রেফতারে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, হারুনের নেটওয়ার্ক কী পুলিশের নেটওয়ার্কের চেয়ে গতিশীল?

জানা যায়, করোনাভাইরাসের এই সংকট মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান তাদের দেন ৫ কেজি করে। এ নিয়ে গত ১ এপ্রিল ফেসবুকে ‘আসুন অসহায় দিন মজুরদের মনের কথা শুনি’ শিরোনামে এক লাইভে সাধারণ মানুষের বক্তব্যসহ অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিদিনের সংবাদের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি শাহ সুলতান আহমেদ।

ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের সংবাদ ও ফেসবুকে লাইভ প্রচার করার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ১ এপ্রিল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সুলতান আহমেদকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পেটান চেয়ারম্যান হারুন ও তার লোকজন। এ সময় সাংবাদিক সুলতানকে উদ্ধার করতে গেলে হারুন ও তার লোকজনের হামলার শিকার হন আমার সংবাদের প্রতিনিধি এম মুজিবুর রহমান ও চ্যানেল এস-এর প্রতিনিধি বুলবুল আহমেদ। পরে স্থানীয়রা আহত তিন সাংবাদিককে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর আহত সুলতান আহমেদকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর দুই আহত সাংবাদিককে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে। সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক মুজিবুর রহমান বাদি হয়ে চেয়ারম্যান হারুনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর চেয়ারম্যানের সহযোগী খালেদ আহমদ নামে একজন গ্রেফতার হয়। এরপর থেকে চেয়ারম্যানের কোনো হদিস পাচ্ছে না বলে দাবি করছে পুলিশ।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিক পেটানোর ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো মূল হোতা চেয়ারম্যান হারুনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কী কারণে  তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না—তা আমরা জানি না। পুলিশের এমন রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে আমাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক করছে। আমরা আশা করি, পুলিশ দায়িত্বশীল হবে এবং সাংবাদিক পেটানোর মূল নায়ক হারুনসহ জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, করোনার প্রার্দুভাবে মানুষকে ঘরমুখী করতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আমরা খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। পাশাপাশি চেয়ারম্যান হারুনকে ধরতে প্রাণপণ চেষ্টা কররছি। তবে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী বলেন, হারুনকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারবো।

পিডিএসও/হেলাল