সরকারি নির্দেশনা মানছেন না মালিকরা

কক্সবাজারে অর্ধশত লবণ মিলে কাজ করছে শতশত শ্রমিক

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ১৮:৫০

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর শিল্প এলাকার প্রায় সব লবণ মিলগুলো লকডাউনের মাঝেও চালু রেখেছে মিল মালিকরা। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক সকাল থেকে স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করে যাচ্ছে।

করোনা মহামারির প্রভাব রোধে সারা দেশ যখন লকডাউন, তখন এসব লবণ মিল চালু রাখা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আজিম, মোজাম্মেল হকসহ অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক ও কাঠের বোট আসছে ইসলামপুর ঘাটে। লবণ লোড- আনলোড করা হচ্ছে স্বাভাবিকভাবে। এসব লবণ মিলগুলো কি বাংলাদেশের বাইরে? সরকারি নির্দেশনা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে কেনও তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। 

জানা গেছে, এই সংকটময় মুহুর্তের কোনও প্রভাব পড়েনি ইসলামপুর শিল্প এলাকায়। সরকারি নির্দেশনা না মেনে কক্সবাজারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছে মিল মালিকরা।

সরজমিন দেখা গেছে, ইসলামপুর শিল্প এলাকায় শাহরিয়ার সল্ট, হক সল্ট, আছিয়া সল্ট, সিরোজ সল্ট, মক্কা সল্ট, মিল্লাত, মিতালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রি চালু রয়েছে। প্রতিটি লবণ মিলে ৩০/৪০ জন করে শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। অনেক শ্রমিক মিলের ভেতর কাজ করছে, আবার অনেকে কাঠের বোটে লবণ লোড আনলোড করছে। ব্যস্ততম সময় পার করছে মালিক ও শ্রমিকরা।

ইসলামপুর লবণ মিল মালিক বহুমুখি সমবায় সমিতি লি: এর সদস্য আবু সাহাদাত মো.সায়েম জানান, ইসলামপুরে লবণ মিলগুলো অনেকদিন বন্ধ ছিল। মালিক ও শ্রমিকদের সাথে সমঝোতা করেই মিলগুলো চালু রয়েছে। সরকার বন্ধ করে দিলে আমরা বন্ধ রাখবো।

স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে, দেশের মহামারীর মুহুর্তে দেশটাকে কোনদিকে নিয়ে যেতে চায় ইসলামপুরের লবণ কারখানা মালিকরা! হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো করে মিল চালু রাখা, শতশত ট্রাক, বোট দেশে বিভিন্ন স্থান থেকে আনার কোন যুক্তি দেখছি না। তারা কি সরকারের ঘোষণার বাইরে? নাকি দেশটাকে পরিকল্পিতভাবে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে!

সচেতন মহলের মতে, বিসিক শিল্প নগরী খ্যাত ইসলামপুরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লবণের পরিবহণ করতে আসা ট্রাকগুলো বন্ধ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। 

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শতশত ট্রাক এখানে আসছে আর লবণ বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে! নাপিতখালীর বটতলিতে শতশত ট্রাকের জটলা সহজে চোখে পড়ার মতো। 

তাদের মতে, প্রতি ট্রাকে চালক ও হেলফার থাকে ২ জন। প্রতি সপ্তাহে ১৫০/২০০ টি ট্রাক আসলে চালক হেলফারও হয় অন্তত ৪০০ জন।

তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তারা ট্রাক নিয়ে সারা দেশ ঘুরে ইসলামপুরে চলে আসেন। জেলা লকডাউন করলে কি হবে? বাতির নিচে অন্ধকারই রয়ে যাচ্ছে। এতে করে দিনদিন করোনা ঝুঁকির দিকে ইসলামপুরের মানুষকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও সচেতন মহল মনে করছেন।

বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।

ইসলামপুর লবণ মিল মালিক বহুমুখি সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি সামশুল আলম আজাদ বলেন, এই বিপর্যয়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে আসছে। এই মন্দা লবণ শিল্পেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই সংকটে যাতে লবণের সংকট সৃষ্টি না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে দেশে নিরবিচ্ছিন্ন লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মিলগুলো সচল রাখা হয়েছে। তবে, মালিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।