রংপুরে বহাল তবিয়তে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা, নীরব প্রশাসন

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২০:০২ | আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২০:১৬

রংপুর ব্যুরো

রংপুর জেলার সদর উপজেলার পাগলাপীরের হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী ও ভূমিখেকো সহদর তাজুল ও তারা গংদের খুটির জোর কোথায়? এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে সদর উপজেলা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। ফলে আলোচনার শীর্ষে  আলোচিত-সমালোচিত এই ২ অবৈধ ব্যবসায়ী।

কোতোয়ালি থানার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এভাবে মাটি খনন ও বালু উত্তোলনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে হরিদেবপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সনাতন ধর্মাবলম্বীরাসহ সাধারণ এলাকাবাসী।

আবাদি জমি খনন ও বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যেই হরকলি শ্মশান ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট খাল-খন্দে ভরে গেছে। চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে কাচা রাস্তাগুলো। যেন দেখার কেউ নেই!

ঠাকুরপাড়া হরকলি গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের  শ্রী উত্তম কুমার ও বিভূতিভূষণ জানায়, ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই একই পরিবারের দুই ভাই দাদন ও অবৈধ বালু ব্যবসা করে, সাধারণ মানুষের ওপর জোরপূর্বক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন। 

মাটি ও বালুবাহী ট্রাক-ট্রাক্টরের অবাধ যাতায়াতে ধুলাবালির কারণে অত্র এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি ছোট ছোট শিশুরা ও বয়স্ক নারী-পুরুষ উভয়ই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। সৃষ্ট ধুলাবালির কারণে অনেক পরিবার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও কাজকর্মও করতে পারছেন না। এমন অসংখ্য অভিযোগের সত্যতা মিলেছে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে। 
আরও অভিযোগ উঠেছে, দাদন ব্যবসায়ী ও বালু খেকো দুই ভাই তাজুল ও তারা গং কোতোয়ালী থানার নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমি খনন ও বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসলেও অজানা কারণে তাদের এহেন অপকর্ম এখনও বহাল তবিয়তে চলছে। 

ভুক্তভোগী সনাতন ধর্মাবলম্বীরাসহ একাধিক গ্রামবাসী জানান, রংপুর সদর (কোতোয়ালি) থানায় মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। 

তাই বাধ্য হয়ে হরিদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ও স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর পরামর্শে রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। 

পিডিএসও/তাজ