ফোন পেলেই ত্রাণ নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন বেড়ার ইউএনও

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৩৫

বেড়া(পাবনা) প্রতিনিধি

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস তাণ্ডবে মৃত্যুপুরীতে পরিণত।  বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস সংক্রমন রোধে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় প্রাণঘাতি এই রোগের সংক্রমণ রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পাবনার বেড়া উপজেলার জনপ্রিয় ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী। ফোন পেলেই ত্রাণ নিয়ে খাদ্য সংকটে পড়া পরিবারের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন তিনি ।

ইতোমধ্যে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ যারা খাদ্য সংকটে পড়েছেন তাদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও মাঠে কাজ করছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোঃ রওশন আলম, বেড়া উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।

শুক্রবার ইউএনও  উপজেলা প্রশাসন বেড়া পাবনা ফেসবুক আইডিতে, যে পোষ্টটি দেয়া হয় তা হুবহু তুলে ধরা হলো,-

“করোনা ভাইরাসের কারণে বেড়া উপজেলার যে সকল পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছেন তারা (০১৭৩৭-৩৬১৪৪৪) নাম্বারে যোগাযোগ করুন। উপজেলা প্রশাসন তাদের বাসায় খাবার পোঁছে দেবে।”

এমন পোষ্ট দেখে নিম্ন আয়ের, মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই ফোন দিচ্ছেন আর ফোন পেয়েই  তাদের সবার বাড়িতে খাবার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ইউএনও। এসকল পরিবারদের চাল, ডাল,আলু পেঁয়াজ, রসুন, তেল,লবণ,সাবান দেয়া হচ্ছে। 

সরেজমিনে ঘুরে উপজেলা প্রশাসনে ফোন করে খাবার পাওয়া কয়েকটি পরিবারের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা ভাবতেও পারিনি ফোন করলে বাড়িতে এসে খাবার দিয়ে যাবে ইউএনও স্যার। খাবার পেয়ে আমরা অনেক খুশি। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিচ্ছেন।

জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে করোনা সংক্রামণ রোধে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ওষুধের দোকান, মুদি দোকানের সামনে তিন ফিট অন্তর অন্তর গোল বৃত্ত এঁকে দেওয়া সহ  উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ভিত্তিক কমিটি গঠন করেছেন। 

এছাড়াও গ্রাম্য পুলিশ, ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এই আতঙ্কের মধ্যে জীবনের ঝুকি নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে জনসমাগম এড়াতে দিন রাত হাট বাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

হাট বাজারে ঘুরে করোনা ভাইরাস সম্পকে জনসাধারনকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণনের পাশাপাশি ঘরের বাইরে আসা লোকজনকে বাড়িতে থাকতে বাধ্য করছেন এবং সরকারি নিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা করে ঘরে থাকতে বাধ্য করছেন।