টঙ্গীতে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২০, ১০:৩২

নাঈমুল হাসান, টঙ্গী(গাজীপুর)

নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশ জুড়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার বেড়েছে কয়েক গুন। চাহিদার চেয়ে জোগান কম হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ফার্মেসি গুলোতে অন্যান্য ঔষধের চাইতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে প্রতিদিনেই আসছেন সাধারণ মানুষ। র্ফামেসিতে হ্যান্ড স্যানেটাইজার না থাকায় নকল স্যানিটাইজার তৈরি করে অসাধু চক্র মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।

টঙ্গী ও তার আশপাশের প্রায় প্রতিটি র্ফামেসি ও ফুটপাতে বিক্রয় হওয়া এসব নকল হ্যান্ড স্যানেটাইজার ব্যবহারে মারাত্বক ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার একটি ওষুধের দোকানে স্যানিটাইজার নিয়ে বিক্রয় করছেন একজন। ৫০ মিলিগ্রামের প্রতি বোতল ৭০টাকা দরে দেশে তৈরি ব্লু-লাইফ ই কমার্স লি: নামক মোড়কে আবৃত ব্লু-লাইফ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রয় করেন। যা ঐ দোকানি একজন ক্রেতার কাছে ১৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করতে দেখা যায়।

স্টেশন রোড এলাকার আরেকটি ঔষধের দোকানে অরগানিক মিনি নামক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে বোতলে মোড়ক জড়িয়ে ১০০ মিলি লিটার হ্যান্ড স্যানেটাইজার বিক্রয় করছে ২৫০টাকা পর্যন্ত।

এসব পণ্য সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোতলের গায়ে দেশিয় নামের প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম লেখা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশি-বিদেশি কোম্পানির বোতল ও মোড়ক হুবহু নকল করে বাজারজাত করছেন। অধিকাংশ পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখও নেই। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে তারও কোনো স্টিকার নেই। আর কোনও কিছু যাচাই না করেই এসব হ্যান্ড স্যানেটাইজার কিনছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে পণ্যের চাহিদা বেশি ও  ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত লাভে বিক্রি করতে পারায় ঐষধ দোকানিরা নির্ধিদায় বিক্রয় করতে দেখা গেছে এসব নকল হ্যান্ড স্যানেটাইজার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে স্যানিটাইজার চাহিদা মতো দেশি কোম্পানি গুলোর প্রতিনিধিরা দিতে পারছেন না। এই সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করে দেশি-বিদেশি বলে নিয়ে আসছেন অনেকে। এই সময়ে একটি চক্র নকল স্যানিটাইজার দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গাজীপুর ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক(টঙ্গী) শফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, স্যানিটাইজার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহিত আইপিএ (আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল) যা এসব নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ব্যবহার করা হয় না। এতে জীবানু ধ্বংস না হয়ে মানব দেহের ব্যবহিত স্থানে ক্ষতি হতে পারে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অসাধু চক্র এমনটা করছে। ইতোমধ্যে নকল পণ্য যাতে র্ফামেসি গুলোতে বিক্রি বন্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারে চর্মরোগসহ নারা রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন মো: খায়রুজ্জামান।