সীতাকুণ্ডে সর্দিজ্বরে নারীর মৃত্যু, এলাকায় করোনা আতঙ্ক

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ২০:৪৬

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাধারণ জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে রেনু বেগম (৪৫) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসে তার মৃত্যু হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিবারটিকে একঘরে করে রেখেছে এলাকার মানুষ।

সীতাকুণ্ড পৌরসভায় শেখপাড়ায়  গত মঙ্গলবার রাতে এই নারীর মৃত্যু হয়। তার পরিবার,চিকিৎসক ও প্রশাসনের দাবী রেনু বেগমের মৃত্যু করোনা সংক্রমণে হয়নি। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ওই নারীর পরিবার জানিয়েছে, সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া এলাকায় কামাল উদ্দিনের স্ত্রী রেনু বেগম গত এক সপ্তাহ ধরে বাপের বাড়ি কুমিরায় জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার অসুস্থ অবস্থায় তাকে সন্ধ্যায় ৬টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসদরে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার প্রায় ২ ঘণ্টা পর সে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুজব রটে যায় করোনাভাইরাসে এ নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এরপর থেকে কেউ তার বাড়ির আশপাশেও যাচ্ছে না। এর মধ্যে স্থানীয় কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বিষয়টি জানতে পারে ওই বাড়ীতে যান। তিনিসহ মরদেহটি নিয়ে তার স্বামী আবার সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর এ্যাম্বুলেন্স করে মরদেহটি নিয়ে তার স্বামী পুনরায় বাড়িতে ফিরে যায়।

পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বাবু জানান, মৃত্যু খবর পেয়ে বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি। নিহত মহিলার বাড়িতে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কেউ যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের স্বামী মো. আক্তার কামাল অবগত করেন। লাশটি দাফন করার জন্য নিহতের পরিবারকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় বলেন, তিনি শুনেছেন ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগে মারা গেছেন। তাই তাঁর স্বজনদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইসে থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওই নারীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়নি, তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

এলাকার বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক তপন মজুমদার বলেন, নিহত রেনু বেগমের বাবার বাড়ি উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের কাজী পাড়ায়। দুই সপ্তাহ আগে ওই মহিলার মাও জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে রেনু বেগম জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়। এরপর বাবার বাড়িতেই স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসা চলে। এর মধ্যে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে সীতাকুণ্ডে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসার ২ ঘন্টা পর ওই মহিলা মারা যায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, বুধবার ওই নারীকে এলাকায় দাফন করা হয়েছে।  স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও তিনি করোনা আক্রান্ত ছিল না বলে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পিডিএসও/তাজ