হাজীগঞ্জে লুঙ্গি পরে অফিস করেন রেল কর্মকর্তা

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৬

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এভাবেই লুঙ্গি পরে অফিস করেন রেলস্টেশন কর্মকর্তা (স্টেশন মাস্টার)

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে লুঙ্গি পরেই নিয়মিত অফিস করেন রেল স্টেশনের কর্মকর্তা (স্টেশন মাস্টার) মো. মারুফ হোসেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত কর্মকর্তা চেয়ারে লুঙ্গি পরেই বসে আছেন এবং তার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

প্রথমে অন্য কোনো কর্মকর্তা ভাবলেও পরে মো. মারুফ হোসেনের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হলাম, তিনিই এই স্টেশনের প্রধান কর্মকর্তা এবং লুঙ্গি পরেই তিনি অফিস করছেন।  ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারিভাবে নির্ধারিত যাতায়াত ভাড়ার অতিরিক্ত মূল্যে ট্রেনের টিকেট বিক্রি করেন। অতিরিক্ত মূল্যে টিকেট বিক্রির প্রমাণও পাওয়া যায়। অথচ নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত মূল্যে ট্রেনের টিকেট বিক্রির সুযোগ নেই। এবং মার্জিত পোশাকেই অফিসে আসতে হয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কারণ, সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট ড্রেস কোড রয়েছে এবং তা মেনেই তাদের অফিস করার বিধান রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মারুফ হোসেন মার্জিত পোশাক তো দূরে থাক; বাসার পোশাকেই অফিস করছেন এবং আরাম আয়েশেই তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নিজের অফিসকে অনেকটা বাসস্থানের মতো তৈরি করে ফেলেছেন।

ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে লুঙ্গি পরা পোশাকেই সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলেন মারুফ হোসেন। এ সময় একজন যাত্রী ট্রেনের টিকেট ফেরত দিতে এসেছেন। তিনি চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ২৬০ টাকা দিয়ে একটি টিকেট ক্রয় করেন। যার সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি ২২০ টাকা।

অতিরিক্ত মূল্যে টিকেট বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে, মারুফ হোসেন সংবাদকর্মীদের কোনো জবাব দেননি। পোশাকের বিষয়ে তিনি বলন, আমি একা মানুষ। সবকিছু আমাকেই দেখতে হয়। এখন দুপুর বেলা, গোসল করতে যাবো। তাই লুঙ্গি পরা অবস্থায় আছি।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার (ডিসিও) আনসার আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পরিদর্শক পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। তার (মারুফ হোসেন) বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পিডিএসও/তাজ