স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

চট্টগ্রামকে স্মার্টসিটি করতে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৫৮ | আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:০৯

চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামকে স্মার্টসিটিতে পরিণত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। আগ্রাবাদ, সিডিএ, হালিশহর এলাকায় জোয়ারের পানির জন্য সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আরো ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকলে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই নিখুঁত হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনভেনশন হলে আয়োজিত ‘স্মার্টসিটি : চট্টগ্রাম’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—এম এ লতিফ এমপি, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফিজ শফি, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, স্থপতি ইকবাল হাবিব, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ভিসি ড. রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, চেম্বার পরিচালক আমীরুল হক, এ কিউ আই চৌধুরী, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, রুহী মুর্শিদ আহমেদ প্রমুখ।

তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, আগে আগ্রাবাদে ফুটপাত ছিল না। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে লোকজন ধুলাবালিতে একাকার হয়ে যেত। এ ধরনের পরিস্থিতি বছরের পর বছর জিইয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর নগরীর মানুষ ফুটপাত দেখেছে।

চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বেলুন উড়িয়ে আইটি ফেয়ার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম

চট্টগ্রামের প্রয়াত সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার সময়ে ধীরে ধীরে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। মন্ত্রী এ সময় স্মার্টসিটির উদ্যোক্তাদের কাছে জানতে চান—গোলটেবিল বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র, ওয়াসার চেয়ারম্যান কিংবা এমডি কাউকে দেখা যাচ্ছে না কেন। তিনি তাদের দেখতে না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামকে স্মার্টসিটিতে রূপান্তরের জন্য সবার সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সবাই মিলেমিশে বসে সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ করলে তবেই স্মার্টসিটিতে পরিণত হবে চট্টগ্রাম।

এর আগে সকালে একই স্থানে অপর এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ফিতা কেটে বেলুন উড়িয়ে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে তিন দিনব্যাপী ৩য় চিটাগাং আইটি ফেয়ার ২০২০-এর উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পৃথিবীতে যে দেশ যত বেশি ডিজিটালাইজড প্রযুক্তি নির্ভর হতে পেরেছে তারা ততই সমৃদ্ধ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে তার কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রে তার হাতে নেওয়া ডিজিটাল পদ্ধতি সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগ করে উন্নত দেশের কাতারে শামিলের পথে এগিয়ে চলছে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন—আইটি ফেয়ারের যৌথ উদ্যোক্তা চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, আইটি ফেয়ারের যৌথ আয়োজক আবদুল্লাহ ফরিদ।

পিডিএসও/হেলাল