উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রথম ননস্টপ এক্সপ্রেসওয়ে

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১:১৪ | আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে যাচ্ছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের বহুমুখী পদ্মা সেতু। আর এই সেতুর দুই অংশে অর্থাৎ ঢাকা থেকে মাওয়া এবং পাচ্চর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ে এখন পুরো দৃশ্যমান, যা শিগগিরই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল কাজ, বাকি মাত্র ১৫ শতাংশ। চারদিকে চলছে সেতু নির্মাণ শেষ করার মহাযজ্ঞ। সেতুতে রোডওয়ের কাজও দৃশ্যমান। এই রোডওয়ের ওপর দিয়ে ২০০ মিলিমিটার (৮ ইঞ্চি) পুরো বিটুমিনাস ঢালাই দেওয়া হবে। পরে এই ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগে অগ্রগতি হয়েছে ২২ শতাংশ, সঙ্গে কমছে ঋণের বোঝাও।

সেতুতে রেলওয়ে স্ল্যাবের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার ছাড়িয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩০ দশমিক ২২ শতাংশ। এরই মধ্যে ১১ হাজার ৮৬০ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে প্রকল্পের আওতায়।

সরকারের অগ্রাধিকারের (ফাস্ট ট্র্যাক) ‘পদ্মা রেল সংযোগ’ প্রকল্পটি থেকে চীনা ঋণের বোঝা কমছে ১৫ শতাংশ, যা টাকার অংকে প্রায় ৩ হাজার ৭১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই টাকা সরকারি খাত থেকে বহন করা হবে। প্রথমে চীনা ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি ৫ লাখ টাকা এখন চীনা ঋণ কমে দাঁড়াচ্ছে ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় চীনা ঋণ কমিয়ে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৯৭০ কোটি ৩ লাখ টাকা।

সরকারকে এ ঋণ নিতে হবে প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিটে (অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে)। সুদ ২ শতাংশ। ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে রেয়াতকাল ৬ বছর।

প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, দ্রুতগতিতে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে, বর্তমানে সার্বিক অগ্রগতি ২২ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে ৯০ শতাংশ।

ঋণের বোঝা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পের আওতায় চীনা ঋণের বোঝা কমেছে ১৫ শতাংশ। আমাদের দেশ উন্নত হচ্ছে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়ছে। চীন প্রস্তাব দিয়েছিল ১৫ শতাংশ ব্যয় সরকারি খাত থেকে বাড়তি মেটাতে হবে, এটা আমরা মেনে নিয়েছি।

জানা গেছে, মূল পদ্মা সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার বাদ দিয়ে চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এবং মাদারীপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার।

দেশের প্রথম এই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বেশ জোরালোভাবেই এগিয়ে চলছে। প্রধান সড়কের কাজ প্রায় শেষের দিকে। চার লেনের এই মহাসড়কের আন্ডারপাস, ওভারপাস নির্মাণের কাজ শেষ। চার লেনের এই এক্সেপ্রেসওয়ের বেশির ভাগ অংশই চলাচলের উপযোগী। এখন চলছে রাস্তার দুই পাশের সড়কের রেলিং বসানো এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের মাঝখানে বিভিন্ন ধরনের গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এক্সপ্রেসের কাজ শেষ করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তবে কয়েকটি জায়গায় কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় সে জায়গাগুলোতে গাড়ি ব্যতিক্রমী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া চার লেনের এই মহাসড়কের দুই পাশে পাঁচফুট করে আরো দুটি লেন করা হচ্ছে, যেগুলো দিয়ে স্থানীয় যানবাহন চলাচল করতে পারবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে ছয় লেনে গিয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে গত সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দেশের প্রধান এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষের পথে। ঢাকা থেকে মাওয়া এবং মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের এক্সপ্রেস এর কাজ ২০২০ সালের মার্চ মাস নাগাদ উদ্বোধন করা যেতে পারে। যেসব রাস্তা দুই লেনের আছে সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে চার লেনে উন্নীত করা হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের পুরোটাই বাংলাদেশের সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। এর কাজ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। তাছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কে সেতু থাকছে ৩১টি (পিসি গার্ডার ২০টি ও আরসিসি ১১টি)। এর মধ্যে বড় সেতু ধলেশ্বরী-১, ধলেশ্বরী-২ এবং আড়িয়াল খাঁ। এছাড়াও ৪৫টি কালভার্ট, তিনটি ফ্লাইওভার, গ্রেট সেপারেটর হিসেবে ১৫টি আন্ডারপাস ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া এবং ভাঙ্গায় দুটি ইন্টারচেঞ্জ।

২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর কাজ শুরু হয় এই এক্সপ্রেসওয়ের। এর প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তাছাড়া ২০২১ সালে খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু। সেতু দিয়ে একই সঙ্গে চলবে বাস ও ট্রেন।

পিডিএসও/তাজ