কুমিল্লায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:২৪ | আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪২

কুমিল্লা প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, কয়েক দিন আগেও আমাদের দেশের মানুষকে বিদেশে অপমানিত করা হতো। বলা হতো ভিক্ষুকের জাতি। অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গত দশ বছরে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

শুক্রবার কুমিল্লার পুরাতন বিমানবন্দরে ময়নামতি রেজিমেন্ট আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী স্পেশাল মোটিভেশনাল ক্লাস-রেজিমেন্ট ক্যাম্পিংয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

একইদিন বিকেলে কুমিল্লা এলজিইডি মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের মেয়র, সদর আসনের এমপি, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা একটি ছোট শহর। এই শহরের উন্নয়নে প্রতিটি পরিকল্পনা নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। লোকসংখ্যা, জীবনযাত্রা, লজিস্টিক সাপোর্ট, সড়ক, ফুটপাত, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ইত্যাদি খেয়াল রাখতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তবে এই পরিকল্পনা হতে হবে বাস্তবভিত্তিক। তা না হলে দুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাবে না। পরিকল্পিত নগরী করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন নির্দিষ্ট স্থানে আবাসন প্রকল্প। 

কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম আরও বলেন, নগরীতে রাস্তা বা পায়ে চলার পথ দখল করে বাড়ি করছেন অনেকে। এতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে নগরী। এজন্য সচেতন হতে হবে। আমার ক্ষমতা আছে বলে আমি এর অপব্যবহার করব আর জনদুর্ভোগ বাড়াব—এটা কাম্য হতে পারে না। তিনি প্ল্যান নিয়ে বাড়ি-রাস্তা-ঘাট নির্মাণের পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, এই নগরীর উন্নয়ন আমার জন্য না, বাসিন্দাদের জন্য। অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করলে আবার সেগুলো ভেঙে নতুন করে উন্নয়ন করতে অনেক টাকা ব্যয় হবে। যেভাবে লোকসংখ্যা বাড়ছে, তাতে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তোরণে মেঘনা ও চাঁদপুর থেকে লাকসাম হয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি উন্নয়নকাজের মান এবং উৎপাদনমুখী চিন্তা নিয়েও সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম বিভাগ) এ এন এম এনায়েতুর রহমান, কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান, সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মীর শওকত হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার আসাদুজ্জামান, জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদুজ্জামান প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, ময়নামতি রেজিমেন্ট বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বিএনসিসির স্পেশাল মোটিভেশনাল ক্লাস-রেজিমেন্ট ক্যাম্পিং ২০১৯-২০ শুরু হয়েছে। ১০ দিনব্যাপী স্পেশাল মোটিভেশনাল ক্লাস-রেজিমেন্ট ক্যাম্পিং আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। 

এই ক্যাম্পিংয়ে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২৩ জন বিএনসিসি প্লাটুনের ৫৫০ জন বিএনসিসি অফিসার ও ক্যাডেট অংশ নেন। 

ময়নামতি রেজিমেন্টের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল। উপস্থিত ছিলেন ময়নামতি রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফেটেন্যান্ট কর্নেল সালাহ উদ্দিন আল মুরাদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্যরা। 

ক্যাডেটদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করার লক্ষ্যে সামরিক প্রশিক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ, মাদকের কুফল ও প্রতিকার, ক্ষুদ্রাস্ত্র ফায়ারিং এবং বিভিন্ন অসামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মোন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিকচর্চার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  

পিডিএসও/হেলাল