রোহিঙ্গা সংকট আমাদের ওপর বোঝা হয়ে আছে : চকরিয়ায় কাদের

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১০

মো. নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট আমাদের ওপর বোঝা হয়ে আছে। আমরা বিশ্ব বিবেকের কাছে আহবান জানাবো, এই অসহনীয় বোঝা বাংলাদেশের ঘাঁড় থেকে সরিয়ে নিন। আমাদের জনগণের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। বিশেষ করে চিন এবং প্রতিবেশি ভারতের কাছে আহবান জানাবো, আমাদের জনগণ কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের ইকোলজি, আমাদের ট্যুরিজম, আমাদের পর্যটন আজকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমাদের জনগণ আতঙ্কে আছে। কাজেই আমরা বিশ্ব বিবেকের কাছে আহবান জানাবো, আগামীকাল গাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোহিঙ্গা নিয়ে একটি রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা আশা করবো, বিশ্ব বিবেক, বিশ্বের আদালত আমাদের প্রতি সুবিবেচনা করবেন। শেখ হাসিনা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, সেই উদারতার ফসল যাতে আমরা পাই। 

বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের  রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার অন্তত লাখো নারী-পুরুষের ঢল নামে। একপর্যায়ে কলেজ মাঠ ছাপিয়ে আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মানুষের স্রোতে ঢাকা পড়ে যায়। 

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের কক্সবাজারের লবণ ও চিংড়ি চাষিদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব নিয়ে বক্তব্য দেন। 

তিনি বলেন, দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকারী অঞ্চল কক্সবাজারের লবণ চাষি ও চিংড়ি চাষিদের বাঁচাতে হবে। লবণ নিয়ে সংকটের কথা আসছে, সেই সংকট যাতে না হয় সেজন্য সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। মধ্যসত্বভোগী সিন্ডিকেট যাতে চাষিদের মুনাফা লুটে খেতে না পারে, ন্যায্যমূল্য পায়, চিংড়ি চাষের সাথে যারা জড়িত তারাও যাতে সকল সুযোগ-সুবিধা পায় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও আলোচনা করা হবে। এতে আপনাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে। 

এ সময় তিনি হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দুই উপজেলার অন্তত ১০টি অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে এবং আরো বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণসহ ডিপিপি অনুমোনদের পর্যায়ে রয়েছে বলে তুলে ধরেন। 

ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন, চকরিয়া পৌরশহরের জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে চিরিঙ্গায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। চকরিয়া সরকারি কলেজের বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ এক যুগেও হয়নি উল্লেখ করে, আগামী একসপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করতে কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলমকে নির্দেশ দেন। 

তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চকরিয়া-পেকুয়ায় পাহাড় হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, একসময় সন্তান হারা মা, স্বামীহারা নববধূ, ভাই হারা ভাইয়ের আহাজারিতে চকরিয়ার বাতাস ছিল ভারী। রক্তের বন্যা হয়ে মানুষের চোখের পানি নদীর পানির সাথে একাকার হয়েছিল। সেই চকরিয়াবাসীর আজকে সুখের দিন। এখানে বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ারে নবজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। 

গণ সংবর্ধনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমূখ।

পিডিএসও/রি.মা