পুত্র সন্তান না হওয়ায় শিশুকন্যাকে পানিতে ফেলে হত্যা বাবার!

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৯

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

পুত্র সন্তান না হওয়ার ক্ষোভে ৪০ দিন বয়সি কন্যা সন্তানকে পানিতে ফেলে এক পাষন্ড বাবা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর সিকদার নামে ওই বাবা তার কন্যা জিদনীকে পানিতে ফেলে দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে এবং জাহাঙ্গীর সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। অজ্ঞাত আসামি করে জিদনীর মা হত্যা মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদার ও সীমা দম্পতির সোহাগী (৯) এবং জান্নাতী (৩) নামে দুজন কন্যা সন্তান রয়েছে। এরপর গত ৮ ডিসেম্বর ওই দম্পতির জিদনী নামের আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বাবা আশা করেছিল পুত্র সন্তানের। কিন্তু ফের কন্যা সন্তান জন্মের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি সে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার সময় জাহাঙ্গীর সিকদার জিদনীকে নিয়ে ঘরে শুয়ে ছিল।

এ সময় তার স্ত্রী সীমা বেগম এবং তার শাশুড়ি পারুল বেগম ঘড়ের বাইরে চাল ঝাড়ার কাজ করছিলেন। শিশুটির মা সীমা বেগম এবং নানি পারুল বেগম কাজ শেষে রাত ১১টার সময় ঘড়ে প্রবেশ করে জিদনীকে দেখতে না পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশী এবং বাড়ির অন্যান্য লোকজন ছুটে এসে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘরের পেছনের ডোবা থেকে ঘুমানোর কাঁথা-বালিশ এবং বিছানাপত্রসহ জিদনীর লাশ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ রাত ৩টার সময় লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে জাহাঙ্গীর সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ময়না বেগম জানান, কন্যা সন্তান হওয়ার পর স্ত্রী সীমার সঙ্গে রাগ করে কথা বলত না জাহাঙ্গীর সিকদার এবং সন্তান জিদনিকে নতুন কাপড় চোপড় কিনে দেয়নি সে।

পানিতে ফেলে শিশু হত্যার খবর পেয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মহরম আলী ও আমতলী, তালতলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ রবিউল ইসলাম এবং আমতলী থানার ওসি শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে। মা সীমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে শুক্রবার দুপুরে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

পিডিএসও/তাজ