ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র ও আহমদিয়া সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশ | ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৪

মজিবুর রহমান খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র ও আহমদিয়া মুসলিম জামাতের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনার পর বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছে মাদ্রাসার ছাত্ররা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। মাদ্রাসার ছাত্রদের কর্মসূচি চলাকালে সেখানে ২ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ অবস্থান করে। 

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের কান্দিপাড়ায় আহমদিয়া উপাসনালয়ে এক পুরষ্কার বিতরণী ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠান শুরুর পরপর বেশ কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হলে দু-পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় দু’পক্ষ ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনার পর রাতেই জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করে। 

জেলা আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সাধারণ সম্পাদক এখতিয়ার উদ্দিন শুভ তাদের মসজিদ ও বাড়িঘরসহ তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন। এসময় একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

অন্যদিকে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী জানান- স্থানীয় শিমরাইল কান্দি মসজিদ দখল করার জন্য লন্ডন থেকে আগত আহমদিয়া নেতার নেতৃত্বে একটি সভা চলছিল। তারা স্থানীয় মুসল্লি ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ব্রাক্ষণবাড়িয়া জামিয়া ইউনিছিয়ার কিতাব বিভাগের ছাত্র সফিউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বর আহত হন বলে জানান তিনি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান- পুরো পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও জাতীয় সংসদে আইন পাস এবং কান্দিপাড়ায় খতমে-নবুওয়ত মাদ্রাসায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মাদ্রাসা ছাত্ররা। ওলামা মাশায়েখ ও সর্বস্তরের তাওহীদি জনতার ব্যানারে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন  সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশ হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতী মুবারক উল্লাহ, দারুল আহকাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রহমান কাশেমী। মুঠোফোনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা জুনায়েদ বাবু নগরী।

মাদ্রাসার ছাত্রদের কর্মসূচী চলাকালে সেখানে ২ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ অবস্থান করে। আগামী ২০ জানুয়ারি মানবন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় সেখান থেকে। 

পিডিএসও/রি.মা