কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড : এলাকায় শোকের মাতম

কারখানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩১

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

কেরানীগঞ্জে ‘প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’র একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় একজনের মরদেহ পাওয়া যায় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরো ১০ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হয়ে দাড়িয়েছে ১১। নিহত ১১ জনের মধ্যে রাজ্জাক (৪০) ও আলম (৩০) নামে দুই সহদোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

নিহত ২ সহদোরের ফুফু সখিনা বেগম বলেন, এই কারখানার পাশেই আমার ভাতিজাদের টিনশেডের বাড়ি কারখানার সুবিধার জন্যই কারখানা মালিক আমার ভাতিজাদের বাড়ি কারখানা মালিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু কারখানা মালিক বাড়ি বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা বুঝিয়ে দেয় নাই । দুই ভাই ওই কারখানায় কাজ করতো। আজকে তারা কারখানায় পুড়ে মারা গেলো। ভাতিজাদের পরিবারের কি হবে বুঝতে পারছি না।

এদিকে, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী কারখানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। এবং এলাকা থেকে এ কারখানাটি চিরতরে বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অ্যাম্বুলেন্স শাখার উপপরিচালক আবুল হোসেন বলেন, কারখানায় অগ্নিকানণ্ডে ঘটনায় আমাকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তবে আমরা চেষ্টা করবো এর আগেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু ঘটনার কারণ নির্ধারণ করলেই হবে না, পাশাপাশি তদন্তে যদি কারো গাফেলতির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ বলেন, এ কারখানায় ২ বছরে ৩ বার আগুন লাগে। আমাদের সব সময় মনে হয় আমরা মৃত্যুকূপে বসবাস করি। আমাদের এলাকায় আমরা আর কোনো কারখানা স্থাপন করতে দিবো না। প্রয়োজনে রক্ত দেবো। তাছাড়া এ ঘটনায় যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং দগ্ধ হয়েছেন তাদের সবার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

পিডিএসও/তাজ