প্রতিদিনের সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশের পর

সেই কার্তিক রবিদাশ এখন সুস্থ; করছেন চাকরি

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:২৪

এমএ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
বর্তমান কার্তিক রবি দাশ(বামে), ডানে পূর্বের অবস্থা (পরিবারের সঙ্গে)

চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় 'হামরা মুচি, টাকা নেই তাই চিকিৎসাও মেলে না’- শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতায় সেই অসুস্থ কার্তিক রবিদাশ এখন পরিপূর্ণ সুস্থ। সেই সাথে করছেন চাকরি।    

জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ (বালাপাড়া) গ্রামের ফুল কুমার রবিদাশ (৪৫) ও তার পুত্র কার্তিক রবিদাশ (২৫) দু'বছর ধরে দু'জন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই যক্ষায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিশেষ করে কার্তিক রবিদাশ যক্ষাসহ কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। যক্ষার চিকিৎসা করতে গেলে কিডনিজনিত কারণে তার শরীরের সম্পুর্ণ অংশ ফুলে যেত। অনেক চিকিৎসা করে কোনও সুফল না পেয়ে আর্থিক দৈন্যতার কারণে একসময় চিকিৎসা বন্ধ করে মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন। 

সংবাদ প্রকাশের জেরে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে নির্বাহী অফিসার মোঃ সোলেমান আলী অসুস্থ কার্তিক রবিদাশের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের হাতে ১০হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

এছাড়া, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর, কৃষি অফিসার সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানসহ সমাজের অনেকেই তাদের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন। পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দু'মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তারা পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেন। স্বামী ও সন্তানদের ছেড়ে যাওয়া ফুল কুমার রবিদাশের স্ত্রী শান্তি রানী রবিদাশ ফিরে আসেন দুঃখের সংসারে। 

কার্তিক রবিদাশের সাথে কথা হয় প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধির সঙ্গে। তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সকলের সহযোগিতায় এখন বাবাসহ আমি পুরোপুরি সুস্থ জীবন-যাপন করছি। বর্তমানে আমি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নর-সুন্দরের চাকরি করছি।    

পিডিএসও/রি.মা