চিনির বস্তায় লবণ পাচার, জনগণের হাতে ধরা

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:২৭

অনলাইন ডেস্ক

হঠাৎ করে লবণ শূন্য হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের খুচরা দোকানগুলো। লবণের দাম কেজি প্রতি আঁশি থেকে দুইশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে-এমন গুজবে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন লবণ কিনতে। ফলে এমন অবস্থায় ক্রেতাদের সামাল দিতে দোকানিদের বেগ পেতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট দোকানগুলোর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এতে করে গুজব আরো ডানা মেলে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর থেকে বিভিন্ন ছোট বড় মুদি দোকানে মানুষের ভীর লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি এলাকায় জন মানুষের মধ্যে পেঁয়াজের মতই আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একেকজন ২ থেকে ৫ কেজি করে লবণ কিনে নিয়েছেন। মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানে বেশ কিছু দোকানের সকল লবণ শেষ হয়ে যায়। পূর্বনির্ধারিত ৩৫ টাকা দামে লবন বিক্রি করেছি বলে তারা জানান। গুজব এমন ডালপালা মেলেছে, শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত সকল শ্রেণির মানুষ লবণ কিনতে ভিড় করছেন। অনেকে মোটরসাইকেল কিংবা অটোরিকসা করে দূর দূরান্ত থেকে এসে লবণ কিনছেন। একের পর এক ক্রেতা লবণ কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

উপজেলার সাপ্তাহিক জয়কালী বাজারের লবণের দাম বাড়ার গুজবে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ফলে তারা পেঁয়াজের মতো দাম বাড়ার আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় অত্যাবশকীয় এ উপকরণ কিনতে চান বলে জানান।

এদিকে উপজেলার শিবদিঘী রোডে লবণের দামের গুজবে চিনির বস্তায় লবণ নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষ ১০ বস্তা লবণ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বলছেন, সরকারবিরোধী একটি কুচক্রী মহল দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলোকে আড়াল করতে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করতে চাচ্ছে। দেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে অশান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এসব মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচারের চালাচ্ছে।

রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, লবণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এটি নিছকই গুজব। বেশি দামে লবন বিক্রেতাকে এবং গুজব সৃষ্টিকারীদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করুন। প্রচারেঃ রাণীশংকৈল থানা, ঠাকুরগাঁও। এমনকি জন স্বার্থে মাইকিং করে পুলিশ।

রাণীশংকৈল থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর মান্নান বলেন, কোনো নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা থানা পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম্য পুলিশদেরও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষদের লবণ গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছি।