অবশেষে ৩ মাদ্রাসা ছাত্রের পায়ের শিকল খোলা হলো

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৪২

অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরে সেই তিন মাদ্রাসা ছাত্রের পা থেকে তালা-শেকল খুলে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমিলিয়া ইউনিয়নের ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ওই ছাত্রের শেকল খুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বুধবার বিকালে তাদের শেকল মুক্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবের আলমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য সাত কর্মদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

১৩ বছর বয়সী ওই শিশুরা ওই মাদ্র্রাসার হেফজখানার ছাত্র। তারা মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন সময় পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিভাবকরাই পায়ে শেকল ও তালা আটকিয়ে রেখে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষকরা।

কখনোই পা থেকে শেকল খোলা হয় না বলে ওই তিন শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী আগে জানিয়েছিল। এই শিশুরা পায়ে বাঁধা ভারী শেকল নিয়েই চলাফেরা, খাওয়া, গোসলসহ দৈনন্দিন সব কাজ করার খবর বুধবার প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন : শিকল বন্দি জীবন ৩ মাদরাসাছাত্রের

তাদের দুইজনের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে। তারা মামা-ভাগনে। অন্যজনের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের টেক মানিকপুর গ্রামে।

মাদ্রাসার সচিব বদরুজ্জামান ভূঁইয়া রতন দাবি করেছিলেন, “এর আগে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগে মাদ্রাসায় সালিশ বসেছিল। সে সময় তাকে বলে দেওয়া হয়েছিল কোনো শিক্ষার্থীকে যেন মারধর না করা হয়। তাছাড়া শিকল খুলে দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক শোনেনি।”

এর আগে ওই মাদ্রাসা তত্ত্বাবধায়ক মো. আরিফুল্লাহ বলেন, “তারা পালিয়ে যায় বলে তাদের অভিভাবকরাই শেকল দিয়ে পায়ে তালা দিয়েছেন।”

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম রানু মাস্টার বলেন, “মিডিয়ায় প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে জানান। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ২৪ ঘণ্টাই তাদের পায়ে লোহার শেকলে তালা বদ্ধ রাখা হত। তাদের খাওয়া-দাওয়া, টয়লেট-গোসল, লেখাপড়া, ঘুম সবই চলত লোহার শেকল বাঁধা অবস্থায়।

বুধবার ওই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন বলে জানান তিনি।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৭৫ জন ছাত্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিব বদরুজ্জামান।