ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতির মাঠে বিগত যৌবনা : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৫৭

অনলাইন ডেস্ক

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের প্রতি সম্মান রেখে বলেছেন রাজনীতির মাঠে ওনারা (ঐক্যফ্রন্ট) এখন বিগত যৌবনা। এখন তাদের ডাকে কেউ সাড়া দিচ্ছেনা। রাজনীতিতে যেই জস প্রতিপত্তি ছিল সেটা হারিয়ে গেছে। তারা এখন যে কথাগুলো বলছেন, সেগুলো মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না।

মাঠে নামায় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে, তারা মাঠে নেমেছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের শক্তিশালী বিরোধীদল প্রয়োজন। কিন্তু সভা-সমাবেশে গিয়ে তারা ইস্যু খুঁজে পাচ্ছেন না। সেই জন্য খড়খুঁটো ধরে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তারা কতক্ষন কোটা আন্দোলন নিয়ে, কখনো নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ঘিরে, কখনো আবরার হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব চেষ্টার কোনওটাই হালে পানি পাচ্ছে না।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জেএম সেন হল মাঠে বাংলাদেশ তাঁতী লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর তাঁতী লীগের আহবায়ক নুরুল আমিন মানিকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফেনী সদর আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন তাঁতী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, কার্যকরী সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্ত। বক্তব্য রাখেন মহানগর তাঁতী লীগের সদস্য সচিব রত্নাঙ্কুর দাশ টুনু, এহছানুল কবির লিটন প্রমূখ।

মাঠে নামায় ঐক্যফ্রন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই আপনারা সরকারের সমালোচনা করবেন। আমরা সমালোচনাকে সমাদৃত করার সংস্কৃতি লালন করি। শক্তিশালী বিরোধী দল সংসদে ও রাজপথে আমাদের বস্তুনিষ্ট সমালোচনা করুক আমরা সেটা চাই। এই সমালোচনা যাতে আমাদের পথচলাকে শাণিত করে। কিন্তু তারা যে অহেতুক সমালোচনা করে, সেটা রাজনীতির ক্ষেত্রে দেশ ও মানুষের জন্য শুভ নয়।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনকে সামনে রেখে আমরা দলকে পরিষ্কার করার কাজে হাত দিয়েছি। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো থেকেও আগাছা-পরগাছাদের দুর করতে হবে। কিছু কিছু আছে শুধু ফেইসবুকে রাজনীতি করেন, ছবি একটা তুলবে সেটা পোস্ট দিবে। এদের জন্যও আমরা অতিষ্ট। এদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমি তাঁতী লীগকে বলবো, আমরা পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের দলে অনেক আগাছা-পরগাছা ঢুকেছে। অনেকে নানাভাবে পদ পেয়েছে। তাদের সমস্ত পর্যায় থেকে দুর করতে হবে। বিরোধীদলে থাকার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যারা নির্যাতন করেছে, তারা যেন কোনওভাবেই দলে প্রবেশ করতে না পারে।

দলের নেতা-কর্মীদের ভাইয়ের রাজনীতি নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে জোরে ভাষণ দিলাম। আমাকে খুশি করতে আপনারা আরও জোরে ভাই ভাই স্লোগান তুললেন। এ ধরনের রাজনীতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর কর্মী হতে হলে তার আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের রাজনীতি করে। আমরা যদি সাধারণ মানুষের চাইতে অতিমাত্রায় সমৃদ্ধশালী হয়ে যাই, অনিয়ম ও অপরাজনীতির মাধ্যমে বিশাল সম্পদের অধিকারী হই তাহলে কিন্তু আমাদের এই দলের প্রতিনিধিত্ব করবার রাজনৈতিক যোগ্যতা কিংবা নৈতিকতা কেনোটাই থাকবে না।

বিশেষ অতিথি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, দলে কোন অপরাধী, মাদকাসক্ত, জুয়াড়ি কিংবা ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর জায়গা যাতে না হয়। শুধু আওয়ামী লীগ নয় দলের যত অঙ্গ সংগঠন আছে প্রত্যেক সংগঠনেই এই ব্যবস্থা নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদক, দূর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।

পিডিএসও/রি.মা