পরীক্ষা চলাকালীন ২০ ছাত্রের চুল কাটলেন অধ্যক্ষ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:০১ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:১৩

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পরীক্ষার হলে ২০ ছাত্রের চুল কাটলেন অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় পরীক্ষা না দিয়ে ছাত্ররা হল থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে শিক্ষকদের মধ্যস্থায় ছাত্ররা হলে ঢুকে পরীক্ষা দেন। এ নিয়ে ছাত্রদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার উপজেলার কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসার দাখিল শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন শিকদার, মাহমুদুল হাসান, রমজান ফকির, ইয়াসিন খান, রহমত শেখ, রিপন, ইয়াসিন শেখ জানান, বুধবার তাদের বাংলা পরীক্ষা চলছিল। এ সময় হঠাৎ করে অধ্যক্ষ বাকের হোসাইন কাঁচি দিয়ে ২০ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেন। এ ঘটনার পর ছাত্ররা পরীক্ষা না দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে যান। পরবর্তীতে মাদরাসার অন্য শিক্ষকদের মধ্যস্থায় ছাত্ররা তাদের পরীক্ষা শেষ করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ছাত্র জানান, বাংলা পরীক্ষার ১ম ঘণ্টা পড়ার পর হঠাৎ করে হুজুর আমাদের হলে ঢুকে সব ছাত্রের চুল কেটে দেন। এ ঘটনার পর আমরা পরীক্ষায় না দিয়ে বেরিয়ে আসার পরে দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপরে আমরা পরীক্ষায় অংশ নিই।

এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ বাকের হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি দাখিল শ্রেণির সব ছাত্রকে পরীক্ষার আগের দিন চুল কেটে মাদরাসায় আসতে বলেছি। ছাত্ররা আমার কথার অবাধ্য হওয়ার কারণে ওদের চুল কেটে দিয়েছি। আমি ওদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে থাকা ও নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই চুল কেটে দিয়েছি। তবে কাউকে ফরম পূরণ করতে দেবো না—এ কথা বলিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল