টঙ্গীতে কলেজছাত্রের মৃত্যুতে ফের অবরোধ-ভাংচুর

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:২৪ | আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৩৫

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে বাস থেকে ফেলে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় হেলপার ও চালককে গ্রেফতারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও সকালে মানববন্ধন হয়েছে। পরে বেলা বাড়তে থাকলে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এদিকে হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না হওয়ায় এখনো গ্র্রেফতার করা হয়নি চালক ও তার সহকারীকে। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারীকে দ্রুত গ্রেফতারে প্রতিশ্রুতি দিলেও ২৪ ঘণ্টা এরই মধ্যে পার হয়েছে। আর এ কারণে বুধবার দুপুরে থেকে টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এতে করে দীর্ঘ সময় রাজধানীর উত্তরা থেকে ময়মনসিংহ রুটে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

এক পর্যায় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পাঁয়ে হেটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ভিআইপি পরিবহনসহ অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। এতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে স্লোাগান দিতে থাকেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাসের চালক ও সহকারীকে দ্রুত আটকের আশ্বাস দিলে সড়ক থেকে সরে যান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।

এরআগে মঙ্গলবার বাস চালক ও সহকারীকে গ্রেফতার ও বিচারের জন্য আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। হাবিবুর রহমান নিহতের ঘটনায় তার বাবা সেলিম মিয়া থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

হাবিবুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতাম। কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে হারিয়ে ছবি বুকে নিয়ে বিলাপ করছেন মা। ঘটনার পর থেকে হাবিবুরের টঙ্গীর ভাড়া বাড়িতে ভীড় করছেন সহপাঠী ও আত্মীয়রা। মঙ্গলবার রাতেই নিহত হাবিবুরকে নোয়াখালীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, হাবিবুর নিহতের ঘটনায় দ্রুত চালক ও তার সহকারীকে আসামি করে মামলা দায়ের ও আসামীদের শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল