খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ বহিষ্কার

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৪১

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
গুমানতলি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল মুহিদ

খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বলে বক্তব্য দেওয়ায় সাতক্ষীরায় শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল মুহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটি জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না—এই মর্মে তিনদিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক এমপি একে ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে ৮ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি।

তিনি বলেন, এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদরাসা অধ্যক্ষ জানিয়েছেন—‘তিনি বলতে চেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে মাদরাসায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। কথাটি শেষ করার আগেই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম বলায় সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আমি কথাটি শেষ করতে পারিনি।’

অন্যদিকে, ঘটনাটি জানতে মাদরাসা অধ্যক্ষ আবদুল মুহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) আনিসুর রহমান মোল্লা বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। শুনেছি, অধ্যক্ষকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গুমনতলি ফাজিল মাদরাসায় ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দুর্যোগ প্রশমন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। রোববার দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় একযোগে এসব ভবন উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে ওই মাদরাসার নতুন ভবনে এক আলোচনাসভায় খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বলে সম্বোধন করায় উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই অধ্যক্ষ।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম কামরুজ্জামান রোববারই বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার, সাবেক সংসদ সদস্য একে ফজলুল হক, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) আনিসুর রহমান মোল্লা প্রমুখ।

পিডিএসও/হেলাল