নওগাঁয় পুকুর পাড় ভেঙে হুমকিতে স্কুল

ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৭ | আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৩২

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের চককালিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় ৯০ জন। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সমস্যার মধ্যেও সফলতার সাথে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। আশপাশের গ্রাম থেকে এখানে পড়াশুনা করতে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কিছু দিন আগে বিদ্যালয়ের পাশের পুকুর পাড়ের তালগাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যালয়েরর অংশে ভাঙন ধরে। যার কারণে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

মিতু নামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই ভাঙা স্থানে পড়ে মারাত্মক জখম হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সময় বল পুকুরে পরে গেলে নানা রকম নির্যাতন ও হুমকি ধামকি প্রদানের অভিযোগ পুকুর মালিক শহিদুল দপ্তরীর বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নেই এবং নির্দিষ্ট খেলার মাঠ না থাকায় বারান্দায় খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা। যার কারণে মাঝে মধ্যেই খেলার সামগ্রী পুকুরে পড়ে। এ কারণে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম খাতুন জানায়, আমাদের খেলার মাঠ নেই তাই আমরা বারান্দায় খেলি। অনেক সময় পুকুরে খেলনা পরে গেলে সেটা আনতে একদিন আমাদের বান্ধবী পুকুরে ডুবে গিয়েছিল। পরে স্যারেরা তাকে উদ্ধার করে। মাঠ না থাকলে আমরা খেলবো কোথায়।

প্রধান শিক্ষক মরজিনা বেগম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পুকুর পাড়ের তালের গাছ পড়ে বিদ্যালয়ের এক অংশ ভাঙন ধরায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক শিশুর স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। পুকুর মালিকদের অনুরোধ করেছি, যদি একটু সংস্কারের উদ্যোগ নিতো তাহলে আমরা সাধ্যমতো এগিয়ে আসতাম। তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড না থাকায় সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জেলা অফিস বরাবর লিখিত দরখাস্ত করেছি।

বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম মণ্ডল প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত দরখাস্ত পেয়েছি। বর্তমানে সংস্কারের জন্য কোনো প্রকল্প নেই, তবে প্রকল্প বরাদ্দ পেলে প্রযোজনীয় উদ্যোগ অবশ্যই নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরের মালিক শহিদুল দপ্তরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অচিরেই এ সমস্যা সমাধান না করা হলে অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেবেন।

পিডিএসও/হেলাল