৪ লেনে উন্নীত হচ্ছে বিমানবন্দর সড়ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০২

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নানা জটিলতায় কাটিয়ে অবশেষে ৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের শাহ আমানত বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। এর আগে গত ২১ আগস্ট দুপুরে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দর সড়কের ২৪টি প্রতিষ্ঠান-স্থাপনার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন।

প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদকালে প্রকল্পের অধীনে রয়েছে—৬৮৯ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন, ৬০০ মিটার ওভারপাস, ৩৮টি ফুটওভারব্রিজ, ২২টি কালভার্ট নির্মাণ, ১২টি সেতু নির্মাণ, ৭টি সøটার হাউস, ৮ রাউন্ড এবাউট নির্মাণ ও শেখ রাসেল পার্কের বিনোদন সুবিধার উন্নয়ন। প্রকল্পের স্ট্রাকচার বাবদ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা, মোট প্রকল্পে ব্যয়ের ১ শতাংশ করে ফিজিক্যাল কনটিনজেন্সি ও প্রাইস কনটিনজেন্সি ধরা হয়েছে। প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় হবে ৫ কোটি টাকা। প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণে ১ম বছর ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা, যা নির্বাহ করা হবে করপোরেশনের রাজস্ব বাজেট থেকে।

জানা গেছে, বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের জায়গা নিয়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসসি গ্রেইন কনভেইয়ার, ফুড মিনিস্ট্রি অব চিটাগাং (সেইলো), টিএসপি কমপ্লেক্স, ইলিয়াস ব্রাদার্স, ওয়েল রিফাইনারি (ভোট), আবুল খায়ের গ্রুপ, যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, সাউথ ইস্টার্ন ট্যাংক টার্মিনাল, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি, এমজেএল বাংলাদেশ, ড্রাই ডক, বাটারফ্লাই পার্ককে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার শাহ আমানত বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সড়কে প্রায়ই যানজট থাকে। সবদিক চিন্তা করে বিমানবন্দর চার লেনে উন্নীতকরণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম গতিশীল করা এবং বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রী সাধারণের জন্যও এই সড়ক চার লেইনে উন্নীত করা দরকার।

তিনি বলেন, এর আগে এ বিষয়টা নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনিও এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। এরপর চিন্তাভাবনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করি। প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে ২৪ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সম্মতি দিয়েছেন, কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। কিছু পুরোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। তাই কিছুটা কনসিডার করার ব্যাপারে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং থেকে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি হয়ে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত সমুদ্রতীরবর্তী অংশ চার লেনে উন্নীত হলে যানজট নিরসন হবে এবং শিশুবান্ধব পর্যটনের সুযোগ বাড়বে। এ ছাড়া স্লটার হাউস নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশগত উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা করা যাবে। চসিক, আইএমইডি ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে সড়কের দৈর্ঘ্য, সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে ড্রাইডক লিমিটেড পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার, বোট ক্লাব থেকে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৩ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। প্রায় ৭ কিলোমিটার চার লেন করবে চসিক। আর ড্রাই ডক লিমিটেড থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার অংশ (নির্মাণাধীন কনটেইনার টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত) ছয় লেন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি প্রয়োজন হবে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ২১৮ বর্গফুট। রেললাইন স্থানান্তরের জন্য জমির প্রয়োজন হবে ২০ হাজার বর্গফুট। মোট জমি প্রয়োজন হবে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ২১৮ বর্গফুট বা ৩২০ কাঠা।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া বলেন, বিমানবন্দর সড়কের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে ড্রাই ডক পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার এবং বোট ক্লাব থেকে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৩ দশমিক ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক ৬০ ফুট চওড়া করা হবে। এ জন্য ৫১৬ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া ড্রাই ডক থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত মধ্যবর্তী ১ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্থ করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পিডিএসও/হেলাল