কক্সবাজারে টানা বৃষ্টি : পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে নিহত ৫

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

কক্সবাজারে এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কখনো থেমে থেমে কখনো মুষলধারে আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

পাহাড় আর সমুদ্র পরিবেষ্টিত এ কক্সবাজার এখন প্রকৃতির বিরূপ আচরণের শিকার হয়ে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে গেছে! এরইমধ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৫ জন। বিভিন্নস্থান তলিয়ে গিয়ে চলাচলের রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার পর্যটন শহর সহ বিভিন্ন স্থান তলিয়ে গেছে। শহরের কালুর দোকান, খুরুশকুল রাস্তার মাথা, বড়বাজার, বাহারছড়া ,বার্মিজ মার্কেটসহ নানা স্থানে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লোকজন। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এসব স্থানে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভাঙা সড়কগুলো আরও ভেঙে গিয়ে বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

শহরের প্রধান সড়কের খুরুশকুল রাস্তার মাথা সংলগ্ন স্থানে প্রধান সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মারাত্মক অবস্থা বিরাজ করছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের ব্যাপক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য আহবান করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী টিম।

জেলায় গত কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে টেকনাফ এবং মহেশখালীতে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে ৪ জন ও মহেশখালীতে ১ জন। এছাড়া কক্সবাজারের হিমছড়িতে মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড় ধসে পুলিশ সহ আহত হয়েছে ১০ জন।

এদিকে, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর,কক্সবাজার শহর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় টানা বর্ষণে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েক শতাধিক বসত-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ বিরাজ করছে। সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরও দুয়েক দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টিতে এখন কক্সবাজার পর্যটন শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা গড়ে উঠায় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে বলে জানায় পৌরবাসী।

পিডিএসও/তাজ