বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, কেউ রুখতে পারবে না : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০৬ | আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৮

হাসমত আলী ও নাঈমুল হাসান, গাজীপুর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের মানুষের কাছে একটি আশ্চর্যজনক দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের জিডিপি রেট অনেক বেশি। মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, শিল্প কারখানা স্থাপন হয়েছে, নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন হচ্ছে, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। আজকে সবার কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা হলো-বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে একটি বিস্ময়কর দেশ। এ দেশ এগিয়ে যাবে, যা কেউ রুখতে পারবে না।

শনিবার বিকেলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জয়দেবপুরে ভাওয়াল রাজবাড়ীর মাঠে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীর ভূমিকা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনসাধারণকে উদ্ধুদ্ধকরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রুপান্তরিত করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য জীবনের প্রারম্ভ থেকে তিনি লড়াই-সংগ্রাম, আন্দোলন, জেল-জুলুম, অত্যাচার- সবকিছু ভোগ করে বাংলার বুভুক্ষ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন দ্রারিদ্রতা থাকবে না, অন্যায় অবিচার থাকবে না। সেই কারণে সকল লড়াই সংগ্রামের এক পর্যায়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে এককভাবে ভোট দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ করে দেন।  

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে ২১ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে এ দেশ পরিচালনা করেছেন। আর বাংলার মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। নির্যাতিত হয়েছে। এদেশের মানুষকে ভিক্ষুকের জাতিতে রুপান্তরিত করা হয়। বাংলার মানুষ তখন খাদ্যের জন্য আর্তনাদ করে বলে ‘মা গো সারাদিন কিছু খাই নাই আল্লাহর ওয়াস্তে চারটা ভাত দেন’। এ রকম একটি ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসে গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নির্যাতিত নিপীড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আবার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লাড়াই-সংগ্রাম, আন্দোলন করার আহবান জানালেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়বেন এ কারণে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গ্রাম-গঞ্জে-হাটে বাজারে ঘুরে সকল মানুষের সমস্যাবলী জানার চেষ্টা করেছেন, বুঝার চেষ্টা করেছেন। কীভাবে এ দেশকে একটি উন্নত দেশে রুপান্তরিত করা যায় সেজন্য পরিকল্পনা করেন। ৯৬ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে দেখলেন এ দেশে খাদ্য ঘাটতি মারাত্মক আকার, মানুষের অন্ন নাই, বস্ত্র নাই, বিদ্যুৎ নাই, কর্মসংস্থান নাই, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক নাই। ঠিক এমনি অবস্থায় তিনি খাদ্য উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন দেশে রুপান্তরিত করেন অল্প সময়ে। কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পায়নে গুরুত্ব দিতে গিয়ে দেখলেন বিদ্যুৎ নাই, জ্বলানি নাই। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানীর উন্নতির জন্য চেষ্টা করলেন।

গাজীপুরের উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরো বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। রাস্তা ঘাট, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সার্বিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমি আশা করি, গাজীপুর একটি অনন্য নগরীতে পরিণত হবে। এই সিটি করপোরেশনকে আমরা একটি স্মার্ট সিটি করপোরেশনে রুপান্তরিত করার চিন্তা করছি। ইতোমধ্যে বিদেশি বেশ কিছু সংস্থা আমার সাথে যোগযোগ করেছেন। গাজীপুরকে নিয়ে বৃহত্তর একটি প্রকল্প নিচ্ছি সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য। গাজীপুরে অসংখ্য শিল্প কারখানা আছে। গাজীপুর অত্যন্ত উর্বর জায়গা। গাজীপুরে যে সমস্ত সুযোগ আছে তা কাজে লাগিয়ে আমারা গাজীপুরকে দিয়ে সারা বাংলাদেশে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারব। 

গাজীপুর সিটি কপোরশনের মেয়র এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শামসুন নাহার ভুইয়া, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আখতারউজ্জামান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুুলিশ কমিশনার মো: আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন প্রমুখ।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দীন মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মুজিবুর রহমান, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ স্থানীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

সভা উপলক্ষে রাজবাড়ীর মাঠ ও এর আশপাশ এলাকা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। দুপুরের পর থেকেই সিটি কপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত নগরবাসী মিছিল সহকারে সভাস্থলে আসেন। এক পর্যায়ে আলোচনা সভাটি জনসভায় রূপ নেয়। পরে একই মঞ্চে অনুুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংকৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশবরেণ্য সংগীত শিল্পি কুমার বিশ্বজিতসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পিরা সংগীত পরিবেশন করেন।

পিডিএসও/রি.মা